তখন আমিও হয়ে যাই নীরব, আমার বাঁশি আর বাজে না, রসস্রোত হয়ে যায় তুষারভূত।”- কবি কোন প্রসঙ্গে এমন বলেছেন?
তখন আমিও হয়ে যাই নীরব, আমার বাঁশি আর বাজে না, রসস্রোত হয়ে যায় তুষারভূত।”- কবি কোন প্রসঙ্গে এমন বলেছেন?
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম 'যদি আর বাঁশি না বাজে' অতিভাষণে কবি কখন-কউভাবে তাঁর লেখার সুর হারিয়ে ফেলতে পারেন- সে সম্পর্কে ইঙ্গিত করেছেন।
আত্মীয়াধিক মানুষেরা মনে করেন দেশকে জাতিকে সাহিত্য-পিপাসুমনকে দান করার অপরিমেয় শক্তি ছিল কবির। শুধু কার্পণ্য করে বা স্বার্থপরের মতো আপন মুক্তির প্রচেষ্টায় সেই দাক্ষিণাদানের দক্ষিণ হস্তকে ঊর্ধ্বে, না জানা শূন্যের পানে তুলে ধরেছেন।
কবি নিজে জানেন তাঁর দান করার সীমাবদ্ধতা বা লেখার সীমাবদ্ধতাকে। কবি মনে করেন এটা কবির কার্পণ্য বা স্বার্থপরতা নয়- এ তাঁর স্বধর্ম, স্বভাব। কবিকে নিজেকে ভেঙে যতটুকু পারেন তা দান করেছেন।
কবি বলেন, আনন্দ-রস-ঘন স্বর্ণবর্ণের এক না জানা আকাশ থেকে কবি লেখার শক্তি লাভ করতো- সেই শক্তি মহাশ্বেতা রূপে কযির মাঝে হয়ে আছে সমাধিস্থ। কবি মনে করেন সেই শক্তি কবি লাভ না করতে পারলে হয়তো তার লেখার সুর বা বাঁশি বন্ধ হয়ে যাবে, কবির আনন্দময় লেখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন এবং কবিও হয়ে যাবেন নীরব।
সুতরাং বলা যায়, কবি মনে করেন যতক্ষণ সক্ষমতা আছে কবি ততক্ষণ লিখে যাবেন কিন্তু কবি যখন আর লেখার আনন্দ- উৎসাহ পাবেন না তখন তিনি নিজেই নীরব হয়ে যাবেন।
.png)