গীতের যে উদ্দেশ্য কাব্যের সেই উদ্দেশ্য।”- ব্যাখ্যা কর
গীতের যে উদ্দেশ্য কাব্যের সেই উদ্দেশ্য।”- ব্যাখ্যা কর
উত্তর : 'গীতিকাব্য' বঙ্কিচন্দ্রের সাহিত্যসমালোচনা বিষয়ক একটি প্রবন্ধ। 'গীতিকাব্য' সাহিত্যরূপকল্প বিষয়ক (Form) রচনা।
গীতিকাব্য প্রবন্ধে গীতিকাব্যের লক্ষণ, স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ই সর্বপ্রথম গীতিকবিতার সংজ্ঞা প্রদান করেন। তিনি গীতিকাব্যের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন, “বক্তার ভাবোচ্ছ্বাসের পরিস্ফুটন মাত্র যাহার উদ্দেশ্য, তাহাই গীতিকাব্য।”
গীতের যে উদ্দেশ্য কাব্যেরও সেই উদ্দেশ্য। ভাবের যেটুকু অব্যক্ত থাকে, সেটুকুই গীতিকাব্য প্রণেতার সামগ্রী যেটি অপ্রকাশিতব্য ভাব সেটিই গীতিকবিতায় প্রকাশ পায়। গীতিকবিতা ব্যক্তিনিষ্ঠ রচনা। ব্যক্তির অনুভূতি, আশা, আকাঙ্ক্ষার স্বরূপ এতে ধরা পড়ে।
গীত মানুষের একপ্রকার স্বভাবজাত। মূলত গীত হতেই গীতিকাব্যের সৃষ্টি। সুরের সাথে কথার বাক্যের সুসামঞ্জস্য মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয় সংগীত। গীতের পরিপাট্যের জন্য স্বল্পচাতুর্য এবং শব্দচাতুর্য আবশ্যক। যিনি সুকবি তিনি সুগায়ক নাও হতে পারে। কাজেই একজন গীত রচনা করেন এবং আরেকজন গান করেন। গীত হওয়ায় গীতিকাব্যের আদিম উদ্দেশ্য।
গীত না হলেও অনেক সময় ছন্দোবদ্ধ রচনা আনন্দদায়ক হতে পারে- আর এভাবেই অনেক গীতিকবিতা রচিত হয়েছে। অর্থাৎ এ থেকে বুঝা যায় গীতের যে উদ্দেশ্য কাব্যেরও সেই উদ্দেশ্য। বক্তার ভাবের সম্পূর্ণ প্রকাশে যা সুরের মাধ্যমে ধরা পড়ে সেই কাব্যই গীতিকাব্য।
সুতরাং সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায়, গীত বা গানের যে উদ্দেশ্য গীতিকাব্যও সেই অর্থ প্রকাশ করে। বস্তুত উভয়ের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।
.png)