কাব্যের ক্ষেত্রে রূপগত বৈষম্য প্রকৃত বৈষম্য নয় কেন?
কাব্যের ক্ষেত্রে রূপগত বৈষম্য প্রকৃত বৈষম্য নয় কেন?
উত্তর : 'গীতিকাব্য' বঙ্কিচন্দ্রের সাহিত্যরূপকল্প বিষয়ক (Form) রচনা। এ-প্রবন্ধে তিনি গীতিকাব্যের লক্ষণ, স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি শুধু কাব্যকে গঠন, আকৃতি ও বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই কাব্যের শ্রেণিবিভাজন করেননি।
প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন- ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য আলংকারিকেরা কাব্যকে নানা শ্রেণিতে বিভক্ত করলেও এদের মধ্যে ৩টি শ্রেণিই প্রধান। যথা : ১. দৃশ্যকাব্য (নাটক); ২. আখ্যানকাব্য (মহাকাব্য, উপাখ্যান, গদ্যকাব্য); ৩, খণ্ডকাব্য (গীতিকাব্য)।
এ ত্রিবিধ কাব্যের মধ্যে রূপগত পার্থক্য আছে। কিন্তু রূপগত পার্থক্যই প্রকৃত পার্থক্য নয়। প্রধান পার্থক্য ভাবগত এবং অন্তর্গত পার্থক্য। গীতিকবিতার উদ্দেশ্য বক্তার ভাবকে পরিস্ফুট করে তোলে। এ ভাবগুলো আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা : ক. ব্যক্ত ভাব এটি নাট্যকার গ্রহণ করে। অব্যক্ত ভাব- এটি গীতিকবি গ্রহণ করে। দৃশ্যকাব্য : শুধু সংলাপ এবং রঙ্গমঞ্চে অভিনয়ের উদ্দেশ্যে রচিত হলেই তা নাটক হবে না। যেভাবে প্রকাশিতব্য তাই শুধু নাটকে আলোচিত হবে।
দৃশ্যকাব্য সচরাচর কথোপকথনে রচিত হয় এবং রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হতে পারে।
আখ্যানকাব্য : আ্যখানকাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো এতে দৃশ্যকাব্য এবং গীতিকাব্য উভয়ের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। ব্যক্ত এবং অব্যক্তভাব উভয়ই তার আয়ও। এখানে স্মরণীয় যে- আখ্যানকাব্যও গীত-ধারায় সন্নিবেশিত হয়ে গীতিকাব্য হতে পারে। অনেক খণ্ডকাব্য মহাকাব্যের আকারে রচিত হয়।
সুতরাং সার্বিক | বিচারে বলা যায়- কাব্যের ক্ষেত্রে রূপগত বৈষম্য প্রকৃত বৈষম্য নয়।
.png)