কুমুদ কীভাবে যাত্রা দলে প্রবেশ করে? তার একটি বর্ণনা দাও


কুমুদ কীভাবে যাত্রা দলে প্রবেশ করে? তার একটি বর্ণনা দাও 

উত্তর : কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি পর্যায়ের তৃতীয় উপন্যাস 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় প্রথমে মেডিকেলে পড়া ও পরে যাত্রা দলে প্রবেশ করা একমাত্র চরিত্রের নাম কুমুদ। 

তার বাড়ি ছিল বরিশালে। কুমুদ ছিল বেপরোয়া এবং - খ্যাপাটে স্বভাবের। সে কলেজে প্রায়ই যেত না। মাঝে মাঝে কুমুদ কবিতা লিখত। হোস্টেলে নিজের ঘরে বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে রাজ্যের ইংরেজি, বাংলা নভেল পড়ত এবং ধর্ম, সমাজ, ঈশ্বর, নারী এগুলো নিয়ে যা মনে আসত তাই বলত। 

কুমুদের বেপরোয়া স্বভাবের কারণে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপর সে একটি চাকরি নেয়। চাকরি থেকেও কুমুদকে বিদায় করে দেওয়া হয়। চাকরি থেকে কুমুদকে বিতাড়নের কারণ হিসেবে জানা যায় সে এক দিন পর পর অফিসে যেত। 

এরপর সে বহরমপুরে বিনোদিনী অপেরা পার্টির যাত্রা শুনে অধিকারীর সাথে ভাব জমায়। অধিকারী ভালো লোক ছিল। প্রথমে অধিকারী কুমুদকে পরীক্ষা করে সত্তর টাকা মাইনে দেয়। 

তারপর কুমুদ দু- চারটে সেনাপতির পার্ট করে অধিকারীকে তার অভিনয়ের শক্তি সম্পর্কে বুঝাতে সমর্থ হয় এবং বিনোদিনী অপেরা পার্টিতে তার অবস্থান পাকা হয়ে যায় এবং সে যাত্রা দলের একজন অপরিহার্য অংশ হয়ে যায়। 

বিচিত্র চরিত্রের অধিকারী কুমুদ এভাবেই যাত্রা দলে প্রবেশ করে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ