লয় কাকে বলে? সংক্ষেপে লয় এর শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর
লয় কাকে বলে? সংক্ষেপে লয় এর শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর
উত্তর : যতি, পর্ব, ছেদ প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানার্জনের সঙ্গে সঙ্গে ছন্দের লয় সম্পর্কে অবহিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
প্রয়োজন ছন্দের শ্রেণিবিন্যাস ও চারিত্র্য যথার্থভাবে শনাক্ত করার তাগিদে। সব কবিতা এক রকম ঢং বা তালে পড়া যায় না।
কোনোটা পড়তে হয় দ্রুতগতিতে, কোনোটা মধ্যগতিতে, আবার কোনোটা ধীরগতিতে। কবিতা পড়ার এ গতিভঙ্গি থেকে সৃষ্ট প্রবাহকে লয় বলে। পাঠভঙ্গি অনুযায়ী বাংলা ছন্দের লয় তিন প্রকার- ধীর লয়, মধ্য লয় ও দ্রুত লয়। তিন ধরনের লয় অনুযায়ী বাংলা কবিতার ছন্দও তিন প্রকার। যথা :
(১) দ্রুত লয়ের ছন্দ স্বরবৃত্ত, (২) মধ্য লয়ের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত। এবং (৩) ধীর, লয়ের ছন্দ অক্ষরবৃত্ত
দ্রুত লয়: দ্রুত লয় হচ্ছে কবিতা পাঠের সেই লয় বা ভঙ্গি যাতে উচ্চারণের গতিবেগ হয় সর্বাধিক দ্রুত এবং যাতে প্রতি পর্বের প্রথম অক্ষরে একটি Accent, tress বা শ্বাসাঘাত পড়ে। যেমন— দুঃখের বরষায় / চক্ষের জল যেই / নামল বক্ষের দরজায় / বন্ধুর রথ সেই / থামল।
মধ্য লয় ; কবিতা পাঠের সময় উচ্চারণের গতিবেগ যখন দ্রুত ও ধীর লয়ের মাঝামাঝি বা মধ্যম ভঙ্গিতে হয় এবং যাতে প্রতি অক্ষর বা ধ্বনি স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয় তখন তাকে মধ্য লয় বলে। যেমন-
শুধু অকারণ ।
পুলকে ক্ষণিকের গান ।
গারে আজি প্রাণে
ক্ষণিকের দিনের ।
ধীর লয়: ধীর লয় হচ্ছে কবিতা পাঠের সেই লয় বা ভঙ্গি যাতে উচ্চারণের গতিবেগ হয় সর্বাধিক ধীর এবং যাতে শব্দধ্বনির অতিরিক্ত একটি সুরের টান বা তান বড় হয়ে উঠে। যেমন
.png)