মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।” ব্যাখ্যা কর

 

মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।” ব্যাখ্যা কর

উত্তর : বাংলা সাহিত্যে প্রাবন্ধিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন সব্যসাচী লেখক। তাঁর 'সভ্যতার সংকট' রচনাটি একটি তাৎপর্য পূর্ণ প্রবন্ধ। 

তিনি প্রবন্ধটি ১৯৪০ সালে নিজের আশিতম জন্ম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে পড়ে শোনান। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্তঃসারশূন্যতাকে তিনি দিব্য দৃষ্টিতে অবলোকন করে তার তীব্র সমালোচনা করেছেন আলোচ্য প্রবন্ধে ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন আশৈশব পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুরাগী। পাশ্চাত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যেই তিনি লালিত-পালিত ও বর্ধিত হয়েছিলেন। তখন ইংরেজি ভাষার মধ্যে দিয়ে ইংরেজি সাহিত্যকে জানা ও উপভোগ করা ছিলো। 

মার্জিতমনা বৈদগ্ধ্যের পরিচয়। ইংরেজদের সভ্যশাসনকে ভারতীয়রা আশীর্বাদ বলে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অল্প বয়সে বিলেতে গিয়ে ইংরেজ চরিত্রের যে মহত্বের পরিচয় পেয়ে ছিলেন তাতে তিনি ইংরেজকে হৃদয়ের উচ্চাসনে বসিয়েছিলেন। 

কিন্তু পরবর্তীতে তাদের তথাকথিত সভ্যশাসনের অন্তরালে যে সাম্রাজ্যবাদী কদর্যতার পরিচয় পেলেন তাতে তাঁর সব বিশ্বাস দেউলিয়া হয়ে গেলো। রবীন্দ্রনাথ ভারতবর্ষের মুক্তির জন্য ভারতের বুক থেকে নবশক্তির আবির্ভাব কামনা করলেন। 

নিজেদের উপর থেকে বিশ্বাস হারানো তিনি পাপ বলে মনে করতেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করলেন যে, মহাপ্রয়লের পর বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে ইতিহাসের একটি নির্মল আত্মপ্রকাশ অবশ্যই আরম্ভ হবে এ পূর্বাচলের সূর্যোদয়ের দিগন্ত থেকে। 

আর একদিন পরাজিত ভারতীয়রা নিজেদের জয়যাত্রার অভিযানে সব বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে তার মহত্মর্যাদা ফিরে পাবার জন্য। লেখক বলেছেন-

“মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব। আশা করব, মহাপ্রলয়ের পরে বৈরাগ্যের মেঘমুক্ত আকাশে ইতিহাসের একটি নির্মল আত্মপ্রকাশ হবে এ পূর্বাচলের সূর্যোদয়ের দিগন্ত থেকে।

অবশেষে বলা যায়, মানুষের জীবনে সবসময় দুঃখবোধ থাকে না। তাই আত্মমর্যাদা ফিরে পাবার জন্য সব বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাই মানুষের উপর থেকে বিশ্বাস হারানো পাপ। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়েই আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়া সম্ভব।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ