সৌন্দর্যের সম্বন্ধ' প্রবন্ধে উৎসবের প্রকৃতি বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা আলোচনা কর
সৌন্দর্যের সম্বন্ধ' প্রবন্ধে উৎসবের প্রকৃতি বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা আলোচনা কর
উত্তর : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা সাহিত্যে আশীর্বাদ পুরুষ হিসেবে অবতীর্ণ হন। একমাত্র মহাকাব্য ছাড়া বাংলা সাহিত্যের যেখানেই তিনি হাত দিয়েছেন, সেখানেই সোনার ফসল ফলেছে।
তিনি বিশ্বকবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করলেও প্রবন্ধ রচনায় যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর একটি বিখ্যাত, প্রবন্ধ হলো 'সৌন্দর্যের সম্বন্ধ'।
‘সৌন্দর্যের সম্বন্ধ' প্রবন্ধে জমিদারের পূর্ণাহের দিনে প্রজাদের খাজনা প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। জমিদারকে খাজনা দেওয়ার দিনই পুর্ণাহ। এদিন প্রজারা ইচ্ছামত কিছু কিছু খাজনা নিয়ে জমিদারের কাচারিতে হাজির হয়।
সে টাকা সেদিন গণনা করার নিয়ম নেই। জমিদারের ভূমি, প্রজারা দেয় তার মূল্য- এই অমানবিক চুক্তির মধ্যে লজ্জিত মানবাত্মা একটা ভাবের সৌন্দর্য প্রয়োগ করতে চায়। নিজেদের মধ্যে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক কল্পনা করে মানুষ শান্তি পায়।
রাজা প্রজার সম্পর্ক ভাবের আদানে প্রদানে। খাজনার টাকার সাথে বাঁশির টাকার কোনো মিল নেই। যখনই ভাবের সম্পর্ক স্বীকৃত হয় | তখনই বাজনা এসে পড়ে। তারা যেন জানাতে চায় আজ মিলনের | দিন, পূর্ণের দিন।
এতে কেবল সংসারের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং প্রজার দুঃখও ঢাকা পড়ে। সেদিন ফুলের মালা, মাটির প্রদীপ, সুন্দর পোশাক পরে বাজনা বাজায়। তার বাজনায় বলতে থাকে “আজকের সুরই যথার্থ সুর। আর সমস্ত বেসুরো।” এ- থেকে একটি প্রশ্ন উঠেছে খাজনা আদায়ে আবার বাজনা বাদ্য কেন? এ প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন-
“ছাগশিশুকে যখন বলিদান দিতে লইয়া যায় তখন কি তাকে মালা পরাইয়া বাজনা বাজায় না?
আজ খাজনা দেবীর নিকটে বলিদানের বাদ্য বাজিতেছে।” অবশেষে বলা যায়, জমিদারের জমি আর তা চাষ করে ফসল ফলায় প্রজারা।
বিনিময়ে প্রজাদের জমিদারকে দিতে হয় খাজনা। অথচ ফসল হোক আর না হোক খাজনা দিতেই হবে। প্রজারা সেই খাজনা দিতে গিয়ে বাজনা বাজায়। এটা হলো তাদের জীবনে পুর্ণাহ।
.png)