অপু হাতে স্বৰ্গ পাইয়া গেল।”- ব্যাখ্যা কর
অপু হাতে স্বৰ্গ পাইয়া গেল।”- ব্যাখ্যা কর
উত্তর : আলোচ্য অংশটুকু বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটি অপুর বই পড়া সম্পর্কে লেখক বলেছেন।
অপুরা যে পাড়ায় বাস করে- সে পাড়ার সবচেয়ে ধনী পরিবার মুখুয্যে পরিবার। মুখুয্যে পরিবারের ছেলেমেয়েগুলো অপু এবং তার বোন দুর্গা কেমন অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে। কিন্তু সে- বাড়ির রাণু মেয়েটি অপুকে খুব ভালোবাসে।
দুর্গার মৃত্যুর পর অপু আর মুখুয্যের বাড়িতে তেমন একটা যায় না। দুর্গার পরে অপু বেশি ভালোবেসেছিল রাণুদিকে। অপুর বই পড়ার একটা নেশা বা শখ ছিল। তার দরিদ্র পিতা তার শখ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় বই কিনে দিতে পারে না।
তবে সেখানে সে যা পেয়েছে তাই পড়ার চেষ্টা করেছে। তার বাবা হরিহরের বাক্সে থেকে পুরোনো দিনের অনেক বই সে গোপনে পড়েছে।
রাণুদের বাড়ির আলমারিতে অনেক পুরোনো বই ছিল। সে অনেকদিনই এর দুএকটা নিয়ে সামান্য পড়ার চেষ্টা করেছে- কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ওবাড়ির সতু তা কেড়ে নিয়েছে। অপু সুযোগমতো রাণুদির কাচে বই পড়ার বিষয় উল্লেখ করে।
রাণু বলার পরও সতু বই পড়তে দিতে রাজি হয় না- তবে সে বই পড়তে দিতে পারে একটি শর্তে তাদের মাঠের পুকুরে মাছ চুরির পাহারা দেয় সতু একা অপু যদি সত্তুর সাথে গিয়ে এ ব্যাপারে সাহায্য করে তবেই সতু বই পড়তে দিতে পারে।
অপু শেষ পর্যন্ত এই শর্তেই রাজি হয়। সে প্রতিদিন দুপুরে সত্তুর কাছ থেকে বই নিয়ে বাঁশবনের ছায়ায়। বসে বসে বই পড়ে। দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত শখ পূরণ হওয়ায় সে- যেন স্বর্গ হাতে পায় ।
আসলে বই পড়ার প্রতি অপুর যে নেশা ছিল- সেই নেশাকে ঔপন্যাসিক স্বর্গীয় আনন্দের সাথে তুলনা করেছেন।
.png)