ঠ্যাঙাড়েদের হাতে পূর্বদেশীয় ব্রাহ্মণ ও তার পুত্রের মৃত্যুর কাহিনি বর্ণনা কর


ঠ্যাঙাড়েদের হাতে পূর্বদেশীয় ব্রাহ্মণ ও তার পুত্রের মৃত্যুর কাহিনি বর্ণনা কর

উত্তর : ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'তে ব্রিটিশ শাসন দেশে যখন বদ্ধমূল হয়নি সে সময়ের কিছু ঘটনার উল্লেখ আছে। 

নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের উত্তরে যে কাঁচা সড়ক ওদিকে চুয়াডাঙা থেকে এসে নবাবগঞ্জ হয়ে টাকী চলে গেছে, ওই সড়কের ধারে দিগন্তবিস্তৃত বিশাল সোনাডাঙ্গার মাঠের মধ্যে, ঠাকুরঝি পুকুর নামক সেকালকার এক বড়োপুেকুরের ধারে ঠ্যাঙাড়েদের আড্ডাখানা ছিল। 

একদিন সন্ধ্যায় এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ ও তার বালকপুত্র কন্যার বিবাহের অর্থ সংগ্রহের জন্য বিদেশে বের হয়েছিলেন। অর্থ সংগ্রহের পর কালীগঞ্জ থেকে দেশে ফেরার পথে সন্ধ্যার সময় ঠাকুরঝি পুকুর পাড়ে এসে ঠ্যাঙাড়েদের হাতে পড়েন। 

দস্যুরা প্রথমে বৃদ্ধের মাথায় লাঠির আঘাত করেন। এরপর পিতাপুত্র দৌড় দিলে ডাকাতদল দুজনকেই ধরে ফেলে। বৃদ্ধ তার একমাত্র সন্তানকে বাঁচানোর জন্য ডাকাতদের অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও কোনো কাজ হয় না। 

ডাকাতদল ব্রাহ্মণ ও তার পুত্রকে হত্যা করে। সন্ধ্যার অন্ধকারে হতভাগ্য পিতাপুত্রের মৃতদেহ একসঙ্গে ঠাণ্ডা হেমন্ত রাতে "ঠাকুরঝি পুকুরের জলে টোকাপানা ও শ্যামাঘাসের দামের মধ্যে পুঁতে ফেলে। 

তৎকালীন সময়ে হতভাগ্য পথিকদের হত্যা করে ডাকাতেরা তাদের ভরণপোষণ ও অর্থবিত্তের ব্যবস্থা করতো। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ