পুনরুক্তবদাভাস অলংকার বলতে কী বুঝ ?
পুনরুক্তবদাভাস অলংকার বলতে কী বুঝ ?
উত্তর : একই চরণে যদি একই অর্থবোধক একাধিক শব্দ ব্যবহৃত হয় এবং অর্থ বিশ্লেষণে যদি তা বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাহলে পুনরুক্তবদাভাস অলংকার হয়।
যেমন- রবীন্দ্রনাথের “তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে" চরণটিতে ব্যবহৃত 'তনু' এবং 'দেহ' একই অর্থবোধক শব্দ। কিন্তু এখানে 'তনু' কথাটির অর্থ 'কৃশ', 'ক্ষীণ' বা 'কোমল' এবং 'দেহ' কথাটির বিশ্লেষণরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।
পুনরুক্তবদাভাস : পুনুরুক্তবৎ (বৎ = মতো) + আভাস। আপাতদৃষ্টিতে কোন বাক্যে যদি মনে হয় একই অর্থে একাধিক শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে অথচ একটু মনোযোগ সহকারে বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যায় যে, আসলে তারা ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত তাহলে সেখানে পুনরুক্তবদাভাস হয় ।
(i) কি কারণে, কহ লো সজনি, সহসা জলেশ পাশী অস্থির হইলা? —মধুসূদন
'জলেশ' ও 'পাশী' দুটো শব্দের অর্থই করুণ। সুতরাং পুনরুক্তবৎ মনে হলেও এখানে 'পাশী' 'পাশ' (অস্ত্র বিশেষ) যার আছে, এই অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। তাহলে 'জলেশ পাশী' | মানে হচ্ছে পাশ অস্ত্রধারী বরুণদেব।
(ii) তনু দেহে রক্তাম্বর নীবীবন্ধে বাঁধা চরণে নূপুরখানি বাজে আধা আধা। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘তনু' ও 'দেহ' দুয়ের অর্থই এক, কিন্তু এখানে 'তনু' ছিপছিপে অর্থে ব্যবহৃত।
(iii) তনুতে শরীর ঘষে, তোমার সুঘ্রাণে, প্রেমে ভালোবেসে স্মৃতি হয়ে উঠি একা --নির্মলেন্দু গুণ
'তনু' এবং 'শরীর' দুয়ের অর্থই দেহ। কিন্তু কবি 'তনু'কে ছিপছিপে, কমনীয় অর্থে ব্যবহার করেছেন।
.png)