রবীন্দ্র মতে পশ্চিমেরা কেন বিশ্ব শাসন করছে?
রবীন্দ্র মতে পশ্চিমেরা কেন বিশ্ব শাসন করছে?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বিশ্ব বিজয়ী শিল্পী। কবি হিসেবেই তিনি নিখিল বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
তবে কাব্য কবিতার পাশাপাশি তিনি প্রবন্ধ রচনাতেও যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বিভিন্ন চিন্তা চেতনার সম্মিলন ঘটেছে 'কালান্তর' (১৯৩৮) নামক প্রবন্ধ গ্রন্থে।
‘কালান্তর' গ্রন্থের শিক্ষা বিষয়ক একটি প্রবন্ধ হলো 'শিক্ষার মিলন'। এ প্রবন্ধের মূলকথা মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ। আর মনুষ্যত্বের বিকাশ, নির্ভর করে বিদ্যা অর্জনের উপর। এককালে পশ্চিমা দেশ ছিলো অসভ্য, তখন জ্ঞান বিজ্ঞানের ধারক ছিল ভারতবর্ষ।
তারপর পশ্চিমা দেশ সর্বত্র তার আধিপত্য বিস্তার করেছে তাদের বিদ্যার জোরে। আজকের দুনিয়াতে পশ্চিমের দেশগুলো বিজয়ী। তারা সারা বিশ্বকে জ্ঞান বিদ্যা ও বুদ্ধির দ্বারা শাসন করছে। এই শাসন ক্ষমতার পেছনে রয়েছে বিদ্যা শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক শিক্ষা, মুক্ত বুদ্ধির চর্চা।
আদিকাল থেকেই মানুষ বিশ্বের উপর কর্তৃত্ব চায়। এটাই মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু এর জন্য চাই শিক্ষার শক্তি ও বিজ্ঞানের সাধনা। বিজ্ঞান চর্চা ছাড়া বর্তমান বিশ্ব পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আদিকালে মানুষ তন্ত্রমন্ত্র ও যাদুমন্ত্র শিখেছে।
তাদের বিশ্বাস ছিলো বিশ্ব শক্তিকে জয় করতে হলে যাদুশক্তি দিয়ে করতে হবে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো এই জাদুমন্ত্রের সাধনাকে বিজ্ঞানের সাধনায় পরিণত করেছে। কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি। আমাদের রোগ হলে ওঝা, ঝাড়, ফুঁক ইত্যাদির মাধ্যমে রোগ সারানোর চেষ্টা করছি।
কিন্তু পশ্চিমারা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্বারস্থ হচ্ছে। বিশ্ব জগতের বিধিবিধানে কোথাও এতটুকু ব্যতিক্রম থাকতে পারে না। বিজ্ঞানের এই বিশ্বাসের জোরে পশ্চিমেরা আজ সারা বিশ্বকে শাসন করছে। লেখক বলেছেন-
"সেই বিদ্যার জোরে সম্যকরূপে জীবনরক্ষা হয়, জীবন পোষণ হয়, জীবনের সকল প্রকার দুর্গতি দূর হতে থাকে। অন্নের অভাব, বস্ত্রের অভাব, জড়ের অত্যাচার, জন্তুর অত্যাচার, মানুষের অত্যাচার থেকে এ বিদ্যাই রক্ষা করে।"
অবশেষে বলা যায় সকল প্রকার উন্নতির মূলে রয়েছে বিদ্যা শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া পৃথিবীতে কেউ কোনো দিন উন্নতি করতে পারেনি। পশ্চিমারা বিদ্যা শিক্ষায়, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে চরম উন্নতি সাধন করেছে। বিজ্ঞানের এই শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে তারা বিশ্বকে শাসন করছে।
.png)