রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শিক্ষার মিলন প্রবন্ধের মূল বক্তব্য সংক্ষেপে লেখ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শিক্ষার মিলন প্রবন্ধের মূল বক্তব্য সংক্ষেপে লেখ
উত্তর : বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা সাহিত্য আকাশের উজ্জল নক্ষত্র। তাঁর উজ্জল প্রতিভায় বাংলা সাহিত্যের অঙ্গন চির আলোকিত হয়ে উঠেছে।
তিনি বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় সফল বিচরণ করেছেন। সমকালীন রাজনীতি তাঁর চিন্তাশীল ও ভাবুক মনকে চিরদিনই কমবেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছিলো। তাঁর এ চিন্তা-চেতনার সম্মিলন ঘটেছে। “কালান্তর” (১৯৩৮) প্রবন্ধ গ্রন্থে।
'কালান্তর' গ্রন্থের একটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ প্রবন্ধ হলো 'শিক্ষার মিলন' (১৯২১)। এটি একটি শিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধ। এ প্রবন্ধের মূলকথা মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ। আর মনুষ্যত্বের বিকাশ নির্ভর করে বিদ্যা অর্জনের উপর।
তবে বিদ্যার উপর অধিকার অর্জন করতে হবে জ্ঞানগত সাধনার দ্বারা। তাহলেই মানুষ সত্যকে পেতে সমর্থ হবে। রবীন্দ্রনাথ এ প্রবন্ধে বলেছেন, এককালে পশ্চিমা দেশ অসভ্য ছিলো, তখন জ্ঞানবিজ্ঞানের ধারক ছিলো ভারতবর্ষ।
কিন্তু তারপর পশ্চিমা বিশ্ব সর্বত্র তার আধিপত্য বিস্তার করেছে বিদ্যার জোরে। পূর্বদেশের লোকেরা সবকিছুর পেছনে সন্ধান করেন কোনো অলৌকিক শক্তি। এঁরা গুরু-মানা জাত এবং কর্তা ভজনই এদের উপাসনা এঁরা কর্তাকে মেনেছে। আর নিজের বুদ্ধিকে ছোট করতে দেখেছে।
কোনো রকম বৈজ্ঞানিক বুদ্ধির দ্বারা চালিত না হয়েই পূর্বের হিন্দু জাতি শুচি ও অশুচিতার অন্ধবোধের দ্বারা মুসলমানকে দূরে ঠেলেছে। রবীন্দ্রনাথ জানতেন আমাদের সর্বপ্রধান সমস্যা শিক্ষা সমস্যা। তাই তিনি শিক্ষাকেই সর্বজাতির মিলনের উপায় বলে গ্রহণ করেছেন। আর এ শিক্ষার মিলন না হলে সত্যের আহবানে সাড়া জাগবে না।
সত্যকে অন্তরে উপলব্ধি করতে হবে এবং বাইরে প্রকাশ করতে হবে কোনো সুবিধা বা সুযোগের জন্য নয়, মানুষের আত্মাকে মুক্তি দেবার জন্য। লেখক বলেছেন, আত্মিক সাধনায় কেবল জাতি বিশেষের মুক্তি নয়, নিখিল মানবের মুক্তি ঘটে।
প্রত্যেক দেশের কেবল নিজ ভোজনশালা নিয়ে থাকলে চলবে না। তার অতিথিশালা চাই যেখানে সে বিশ্বকে অভ্যর্থনা করে ধন্য হবে। আর শিক্ষা ক্ষেত্রই তার প্রধান অতিথিশালা। এ রবীন্দ্রনাথ ভারতবর্ষের জন্য এরূপ অতিথিশালা কামনা করেছেন। এ তিনি বলেছেন-
“ভারত আজ সমস্ত পূর্বভাগের হয়ে সত্য সাধনার অতিথিশালা প্রতিষ্ঠা করুক। তার ধনসম্পদ নেই জানি, কিন্তু তার সাধন সম্পদ আছে। সেই সম্পদের জোরে সে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং তার পরিবর্তে সে বিশ্বের সর্বত্রই নিয়ন্ত্রণের অধিকার পাবে।”
সবশেষে বলা যায়, মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য শিক্ষার প্রসারকেই একমাত্র উপায় হিসেবে গণ্য করতে হবে। জীবনের বিভিন্ন সময়ে স্বদেশের শিক্ষা, শিক্ষার তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা উচিত। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি কোনো দিন উন্নতি করতে পারেনি।
.png)