সভঙ্গ শ্লেষ অলংকারের বর্ণনা দাও
সভঙ্গ শ্লেষ অলংকারের বর্ণনা দাও
উত্তর : কবি যদি এমন শব্দ ব্যবহার করেন, যে শব্দকে না ভাঙলে বিভিন্ন অর্থ পাওয়া সম্ভব নয়।
(i) শ্রীচরণেষু
(ii) আমার দিনের শেষ ছায়াটুকু মিশাইলে মূলতানে; গুঞ্জন তার রবে চিরদিন... -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(i) 'শ্রীচরণেষু' আচার্য শ্যামাপদ চক্রবর্তী, সভঙ্গ শ্লেষের এ চমৎকার উদাহরণটি সংগ্রহ করেছেন কলকাতার কলেজ-স্ট্রিট মার্কেট থেকে। এটি একটি জুতোর দোকানের নাম। খরিদ্দারের 'শ্রীচরণ' ভরসা করে জুতোর দোকানিকে বাঁচতে হয়,
সুতরাং 'শ্রীচরণ' শব্দের শেষে সপ্তমীর বহুবচন যুক্ত হলে হয়- 'শ্রীচরণেষু'। কিন্তু আসল বক্তব্য আরো গভীরে, শ্রীচরণে+ঘু (Shoe) (জুতো)-শব্দ ভেঙে পাওয়া গেল অতএব এটি সভঙ্গ শ্লেষ ।
(ii) দ্বিতীয় উদাহরণটি উদ্ধৃত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের ‘রোগশয্যায়' কাব্য থেকে। মূলতান সংগীতের রাগিণী বিশেষ। এটি গাওয়া হয় সূর্যাস্তকালে । সংগীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ তাই দিনের শেষ ছায়াটুকুকে মূলতানে মিশিয়েছেন। কিন্তু কথাটি ভাঙলে আরো গভীরতর অর্থের সন্ধান আমরা পেতে পারি-
মূলতান : মূল + তান; অর্থাৎ বিশ্বের সেই আদি অনন্ত রাগিণীকে তিনি 'রোগশয্যায়' থেকে উপলব্ধি করেছেন যার গুঞ্জন অনন্তকালব্যাপী প্রসারিত। সুতরাং 'মূলতান' এখানে সভঙ্গ শ্লেষের চমৎকার উদাহরণ।
.png)