আশ্রমই বল আর আশ্রয়ই বল, সে তার কোথায়।'-ব্যাখ্যা কর
আশ্রমই বল আর আশ্রয়ই বল, সে তার কোথায়।'-ব্যাখ্যা কর
উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিচিত গৃহদাহ উপন্যাসে আলোচ্য উক্তিটি মৃণালের। উপন্যাসের পরিণতিতে মহিম অচলার গম্ভব্য সম্পর্কে জানতে চায়। প্রতুত্তরে মৃণাল মহিমকে এমন বলেছে।
মহিমের প্রতি অচলার শ্রদ্ধা ছিল। কিন্তু মহিমের নিষ্প্রভ ব্যক্তিত্বের কারণে, উদাসীনতার কারণে সে সুরেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে।
মহিমের বিশাল উদারতা যেমন সুরেশের কাছ থেকে বার বার অচলাকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছে তেমনি সুরেশের উদ্বেল আবেগ উচ্ছলতাও অচলাকে সাময়িকভাবে মহিমের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। দুই শক্তির আকর্ষণে ও বিকর্ষণে অচলা হাবুডুবু খেয়েছে।
আর এ নিয়ে 'গৃহদাহ' সেদিন এহিমের গৃহই শুধু দাহ হয়নি, শুধু মহিমের সর্বস্ব পুড়ে শেষ হয় নি, অচলার সর্বস্বও পুড়ে গেছে। এ গৃহদাহে অচলাই খুইয়েছে যথাসর্বস্ব। সমাজের অস্তিত্ব অচলা অস্বীকার করতে পারে নি। সে চেয়েছে সমাজকে আঁকড়ে বাঁচতে।
আসলে অচলা স্বামিত্বের আদর্শকে আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু আদর্শের সঙ্গে সংসারের পাত্রকে সে মিলিয়ে নিতে পারে নি। তার উতলা। হৃদয়কে সে দমন করতে পারে নি। তাই একবার মহিম একবার সুরেশ এভাবে দুই কূলে সে শুধু চৌক্কর খেয়ে বেড়িয়েছে।
মহিম অচলাকে স্থির কূলের সন্ধান দিয়েছিল কিন্তু পরিস্থিতি তাকে কূলে ভিড়তে দেয়নি। তথাপি সুরেশের কাছে গিয়ে সে নিজেকে একেবারে ধ্বংসও করতে পারেনি।
কারণ তখনো মহিমকে মুছে ফেলা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। যার ফলে অচলা হারিয়েছে সমাজ, স্বামী, পিতা, গৃহ । তার কাছে শুধু আছে অসীম হাহাকার ।
অচলা যখন আশ্রমের কথা মহিমকে খুঁজে দিতে বলে কিন্তু মহিম এর কোন উত্তর দিতে পারেনি। তাই মহিম মৃণালকে অচলার শেষ আশ্রয়স্থল এবং একই সাথে আশ্রম এর সন্ধান প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
.png)