অপু কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও
অপু কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও
উত্তর : ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'র একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হরিহর রায়ের পুত্র অপু।
'অপরাজিত' উপন্যাসে যে কিশোর ও যুবক অপুর ছবি আঁকা হয়েছে পথের পাঁচালী'তে তার সূচনা মাত্র আমরা পাই। অপুর শৈশব ও এ উপন্যাসের একমাত্র না হলেও সর্বপ্রধান উপজীব্য। তার চরিত্রে অসাধারণত্ব আছে সত্য, কিন্তু সে বাংলাদেশের সাধারণ পলিশিশু বটে।
অপুর অসাধারণত্বের প্রমাণ আমরা পাই তার চালভাজা বা পানসে পায়েস খাওয়ার অবোধ আনন্দে, তাজবিবির ছবি দেখার আগ্রহে, বাবার অনুপস্থিতিতে লেখাপড়া ফেলে গুলো খেলতে বেরিয়ে পড়ায়, সামান্য খাদ্যবস্তু বা বুনো ফলমূলের প্রতি লোভের আতিশয্যে-
দেখলেই মনে হয়, একে তো আমরা চিনি, পাড়াগাঁয়ের পথেঘাটে একে তো বহুবার দেখেছি। আর তাকে অসাধারণ করে তুলেছে তার কল্পনাপ্রবণ সৌন্দর্যসৃষ্টি। সবচেয়ে বড়োকেথা, এই অসাধারণ কল্পনাপ্রবণতাই তাকে নিশ্চিন্দিপুরের নিসর্গ-স্বর্গের অন্তর্লোকে প্রবেশের ছাড়পত্র দিয়েছে, এই গুণেই সে হয়ে উঠেছে "অর্ধেক মানব আর অর্ধেক প্রকৃতি”।
অপু নিশ্চিন্দিপুরকে ভালোবাসে- কিন্তু নিশ্চিন্দিপুরের এই আকর্ষণ । গ্রাম-বাংলার কোমল-মধুর নিসর্গ-সৌন্দর্যের আকর্ষণ মাত্র নয়। শিশুকাল থেকেই অপু ভাবপ্রবণ ও কল্পনা বিলাসী, অর্থাৎ সে কবি। তাই তার নিসর্গদৃষ্টি প্রধানত কবি দৃষ্টি।
তার কাব্য মাধুর্যের কাব্য; তার গানের সুর রাখালিয়া বাঁশির অথবা বৈষ্ণবের একতারার সুর। কিন্তু তবু তার ক্ষুদ্র বালুকণার মধ্যে বিশ্বরূপ দর্শনের ক্ষমতা অপুর আছে- এবং এই ক্ষমতা আছে বলে এই অপরিণতবুদ্ধি বালক আমাদের এমন রহস্যময়ভাবে আকর্ষণ করতে পারে।
.png)