হরিহর কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও
হরিহর কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও
উত্তর : কোনো কোনো সমালোচক হরিহরকে ডিকেন্সের মিকবার চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন? দুজনের মধ্যে সাদৃশ্য অবশ্যই কিছু আছে- মিকবারের মতো হরিহরও আশা মরীচীকার ছলনায় বার বার বিভ্রান্ত হয়, কিন্তু কিছুতেই তার শিক্ষা হয় না।
এইবার ঠিক একটা কিছু হয়ে যাবে', শীঘ্রই সুদিনের মুখ দেখতে পাব', 'এত কষ্ট, এত অভাব আর থাকবে না,'- আশার তার অন্ত নেই। কিছুই হয় না, সুদিন আসে না, অভাব ঘোচে না, কিন্তু হরিহরের অপরাজেয় আশাবাদে একটুও টোল খায় না। তবু হরিহর মিকবার নয়।
এর দুটি কারণ আছে- একটি ঘটনাগত, আরেকটি চরিত্রগত। দুজনেই দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল; কিন্তু মিকবার অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অবস্থা ফিরিয়ে ফেলতে পেরেছিল, হরিহর কাশীতে গিয়ে তা পারেনি, শোচনীয় দারিদ্র্যর মধ্যেই তার জীবনাবসান হয়েছিল।
তাছাড়া দুটি চরিত্রও ভিন্ন জাতের- মিকবার আমাদের হাসায়, হরিহর কাঁদায়। তার বাউণ্ডুলে প্রায় যাযাবর জীবনের মধ্যে এমন একটা কিছু আছে যা আমাদের সহানুভূতি ও করুণা আকর্ষণ করে। একজন সমালোচকের রচনা থেকে একটা উদ্ধৃতি দিয়ে হরিহর প্রসঙ্গ শেষ করা যায়।
হরিহরের মধ্যেও একটা শিল্পী মন ছিল। তার কথকবৃত্তি, তার গ্রন্থ সংগ্রহের প্রবণতা সেই দিকেই ইঙ্গিত করে। তার মধ্যেও একটা সুদূরতৃষ্ণা ও রোমান্স পিপাসা ছিল, যার জন্য সে বিবাহোত্তর দশটি বছর নিরুদ্দেশে কাটিয়েছে।
অপু যত নি বড়োহেয়েছে, হরিহরের এই রূপটিকে সে তত ভালো করে উপলব্ধি করেছে। হরিহরের জীবনসংগ্রামে পরাজিত মূর্তি অপুর মনে বিশেষ কোনো ছাপ রাখেনি। বাবা যে তাকে অর্থ-স্বাচ্ছন্দ্য দিয়ে যায়নি, এজন্য তার কোনো ক্ষোভ ছিল না, কারণ অর্থে সে অতৄষ্ণ।
বাবার কথকশিল্পী-রূপই তার মনে সাড়া জাগিয়েছে।" (শ্রীচিত্তরঞ্জন ঘোষ। নিজের প্রকৃতি-প্রীতি ও রোমান্স পিপাসারও মূল সে খুঁজে পেয়েছে পিতৃচরিত্রের উত্তরাধিকারের মধ্যে।
.png)