পাঠানদের খাদ্যগ্রহণ পদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধর
পাঠানদের খাদ্যগ্রহণ পদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধর
উত্তর : সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত "দেশে বিদেশে” ভ্রমণ কাহিনির তথ্যমতে পাঠানেরা খাবার সময় কার্পেটের উপর বিশ- ত্রিশ হাত প্রয়োজনে আরো অতিরিক্ত একখানা কাপড় বিছিয়ে দেয়- যার স্থানীয় নাম দস্তরখানা।
সেই দস্তরখানার দুদিকে সারি বেঁধে এক সারি আরেক সারির মুখোমুখি বসে। তারপর সমস্ত মাঝখানে এনে রাখে। তিন থালা আলু-গোস্ত, তিন থালা শিক কাবাব, তিন খালা মুরগির রোস্ট, তিন থালা সিনা কলিজা, তিন থালা পোলাও-দস্তরখানার মাঝে সাজিয়ে রাখা হয়।
সবাই আপন আপন থালা নিয়ে বসে- সবাই সবকিছু অল্প পরিমাণে হলেও পায়। পাঠানদের যার সামনে যা পড়ে তাই নিয়েই খেতে শুরু করে। তবে তারা নিজেরা কোনো কিছুই চেয়ে খায় না। মাঝে মাঝে কেউ অন্যের থালা দেখিয়ে তাকে কিছু দিতে বলে।
সবাই তার দিকে খাবার এগিয়ে দিতে আরম্ভ করে। তারপর মজলিশে গালগল্প শুরু হয়। গল্পের ঝোঁকে অনেকে শুকনো রুটিই চিবিয়ে খেয়ে নেয়। পাঠানদের খাবারের নিয়মই হচ্ছে একলা পোলাও- গোস্ত খাওয়ার থেকে সবাই মিলে শুকনো রুটি চিবানোই শ্রেয়।
আসলে পাঠানরা সম্মিলিতভাবে আনন্দের সাথে খাবার গ্রহণ করাটাকে ধর্মের এবং আতিথেয়তার অংশ মনে করে।
.png)