লেখালেখি করে মাসে ৬ হাজার টাকা ইনকাম

ফেসবুকে লিংক শেয়ার করে ১০০০ টাকা আয়

বাংলাদেশের কৃষক রচনা Class 6, 7, 8, 9

 প্রশ্নঃ বাংলাদেশের কৃষক রচনা | রচনা বাংলাদেশের কৃষক

বাংলাদেশের কৃষক রচনা - প্রিয় শিক্ষার্থী ভাই বোনেরা তোমাদের জন্য আমরা বাংলাদেশের কৃষক রচনা নিয়ে আসছি। তোমরা যাতে খুব সহজে এখান থেকে পড়তে পারো বাংলাদেশের কৃষক রচনা। এখন প্রায় সব পরিক্ষায় বাংলাদেশের কৃষক রচনা আসে। 

তোমাদের যদি কারো জানা না থাকে তাহলে নিচের বাংলাদেশের কৃষক রচনা পয়েন্ট পড়লেই তোমরা ভালো ভাবে জেনে যাবে। ক্লাস ৬ থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত সবাই এই বাংলাদেশের কৃষক রচনা পড়তে পারবে। কোনো রকম সমস্যা হবে না বাংলাদেশের কৃষক রচনা টি পড়তে ও লিখতে। তোমরা যেকোন পরিক্ষায় এই বাংলাদেশের কৃষক রচনা টি লিখতে পারবে। রচনাটি পড়ার আগে জেনে নাও প্রবন্ধ রচনা লেখার নিয়ম। বাংলাদেশের কৃষক রচনা টি দেখে নেই।

বাংলাদেশের কৃষক রচনা Class 6, 7, 8, 9
বাংলাদেশের কৃষক রচনা Class 6, 7, 8, 9

বাংলাদেশের কৃষক রচনা

সূচনা: বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ লােক কৃষক। কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ দেশ ভরে ওঠে ফসলের সমারােহে। আমরা পাই ক্ষুধার আহার। কৃষকের উৎপাদিত ফসল বিদেশে রফতানি করে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। বলতে গেলে, কৃষকই আমাদের জাতীয় উন্নয়নের চাবিকাঠি, আমাদের জাতির প্রাণ। কবির ভাষায়:

সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, 

দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।

কৃষকের অতীত ইতিহাস: প্রাচীনকালে এ দেশে জনসংখ্যা ছিল কম, জমি ছিল বেশি। উর্বরা জমিতে প্রচুর ফসল হতাে। তখন শতকরা ৮৫ জনই ছিল কৃষক। তাদের গােলা ভরা ধান, এ থাকত মাছে। তাদের জীবন ছিল সুখী ও সমৃদ্ধ। তারপর এলাে বর্গীর অত্যাচার, ফিরিঙ্কিা-পর্তুগিজ জলদস্যুদের নির্যাতন, ইংরেজদের খাজনা আদায়ের সূর্যাস্ত আইন, শােষণ ও নিপীড়ন। এলো। বাংলা উজাড় হলাে। কৃষক নিঃস্ব হয়ে গেল। সম্পদশালী কৃষক পরিণত হলাে সম্পদশালী কৃষক পরিণত হলাে ভূমিহীন চাষিতে। দারিদ্র্য তাকে কোণঠাসা করল। কৃষকের জীবন হয়ে উঠল বেদনাদায়ক। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় 

স্কন্ধে যত তার চাপে ভার

বহি চলে মন্দগতি যতক্ষণ থাকে প্রাণ তার 

তারপর সন্তানেরে দিয়ে যায় বংশ বংশ ধরি ••• 

শুধু দুটি অন্ন খুঁটি কোন মতে কষ্ট-ক্লিষ্টপ্রাণ

রেখে দেয় বাঁচাইয়া। 

এভাবেই এককালের সুখী ও সমৃদ্ধ কৃষকের গৌরবময় জীবন-ইতিহাস অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

বর্তমান অবস্থা: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। কিন্তু বাঙালি কৃষকের উদ্বাস্তু, অসহায় ও বিষন্ন জীবনের কোনাে রূপান্তর ঘটে নি। বাংলার কৃষক আজো। শিক্ষাহীন, বস্ত্রহীন, চিকিৎসাহীন জীবন-যাপন করছে। দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে, কমেছে কৃষি জমির পরিমাণ। জমির উর্বরতাও গেছে কমে। ফলে বাড়তি মানুষের খাদ্য যােগাননার শক্তি হারিয়েছে এ দেশের কৃষক। পৃথিবী জুড়ে চাষাবাদ পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটেছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নত দেশ কৃষকের শক্তি বৃদ্ধি করছে। কিন্তু এ দেশে এখনাে মান্ধাতার আমলের চাষাবাদ ব্যবস্থা বহাল আছে। বাংলার কৃষকও ভোতা লাঙল আর কঙ্কালসার দুটো বলদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ - কোনাে কিছুই মােকাবেলা করার কৌশল ও সামর্থ্য কৃষকের নেই। তবে ধীরে ধীরে এই। অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পদ্ধতি প্রয়ােগের গুরুত্ব বাড়ছে। সম্প্রতি ব্যাংক, সমবায় সমিতি বা মহাজনের ঋণের টাকায় আর উচ্চ ফলনশীল বীজের সাহায্যে কষিতে ফলন বেডেক ক্ষেতের ফসল কৃষকের ঘরে ওঠার আগেই ব্যাংক, সমবায় প্রতিষ্ঠান কিংবা মহাজনের ঋণ , হয়। তাই কৃষকের সুখ-স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অবলম্বন হলেও কষকের শশাচনীয় অবস্থার পরিবর্তন হয় না। এখনাে তারা নানা রােগ-শােক, অশিক্ষা-কশিক্ষা দাবিদা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে

কৃষকের উন্নয়ন: বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। দেশীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদানও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কৃষকের উন্নয়ন সাধন করা দরকার। বাংলার কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আজ সবচেয়ে বেশি দরকার চাষাবাদে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবর্তন। নিজের জমিতে কৃষক যেন স্বল্পমূল্যে উন্নত বীজ, রাসায়নিক স্যার কীটনাশক পায় তার ব্যবস্থা করা। প্রয়ােজনে কৃষককে সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করতে হব। আবার কৃষক যেন ফসলের ন্যায্য দাম পায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত। তাদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। আধুনিক কৃষি-যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার জন্য তাদের প্রশিক্ষন দিতে হবে। সারা বছর কৃষকের কাজ থাকে না। তাই তার অবসর সময়টুকু অর্থপূর্ণ করার জন্য কুটির শিল্পকে কে তাকে আগ্রহী করে তলতে হবে। 

উপসংহার: বাংলার কৃষকরাই বাঙালি জাতির মেরুদণ্ড। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি তারা। তবুও কৃষকরা এই ফল বয়ে অবহেলিত। বিশেষ করে তাদের সামাজিক মর্যাদা এখনাে নিম্নমানের। এ বিষয়ে আমাদের সকলের সচেতন দৃষ্টি দেওয়া প্রয়ােজন। কৃষক ও কবিকে গুরুত্ব দিলেই আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। দেশের পরিদ্র্য দূর হবে। বাংলার ঘরে ঘরে ফুটে উঠবে স্বাচ্ছন্দ্যের ছবি। বলা যায় , কৃষকের আত্মার। ৩তরই লুকিয়ে আছে আমাদের সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের বীজ।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ বাংলাদেশের কৃষক রচনা | রচনা বাংলাদেশের কৃষক

শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে আমরা জানলাম রচনা বাংলাদেশের কৃষক। যদি আজকের এই রচনা বাংলাদেশের কৃষক টি ভালো লাগে তাহলে এখনি ফেসবুকে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন আর এই রকমই নিত্যনতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।

Next Post Previous Post