আরকে রায়হান https://www.rkraihan.com/2022/02/sor-ritur-rocona.html

বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা Class 5, 6, 7, 8, 9, 10


বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা - শিক্ষার্থী বন্ধুরা কেমন আছেন? তোমরা যারা রচনা রচনা কর তাদের জন্য আজকে বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা নিয়ে আসছি। তোমরা বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা টি পড়লে বুঝতে পারবে কত সহজ একটা রচনা। 

বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা Class 5, 6, 7, 8, 9, 10
বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা Class 5, 6, 7, 8, 9, 10

এই বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা টি যেকোন ক্লাসের জন্য। যারা ক্লাস ৫ম শ্রেনীতে আছে তাদের জন্যও এই বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা টি। আবার ক্লাস দশম শ্রেনীতে আছো তাদের জন্য এই বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা । অর্থাৎ ক্লাস ৫ম শ্রেনী থেকে ১০ম দশম শ্রেনী পর্যন্ত সবার প্রযোজ্য এই বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা । রচনাটি পড়ার আগে তোমরা রচনা লেখার নিয়ম ও সুচিপত্রটি দেখা নাও।

সুচিপত্র: বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা | রচনা বাংলাদেশের ষড়ঋতু

  • সূচনা
  • ষড়ঋতুর পরিচয়
  • গ্রীষ্মকাল
  • বর্ষাকাল
  • শরৎকাল
  • হেমন্তকাল
  • শীতকাল
  • বসন্তকাল
  • উপসংহার

বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা

সূচনা: বাংলাদেশ ঋতু-বৈচিত্রের দেশ। এখানে এক এক ঋতর এক এক রূপ। ঋতুতে ঋতুতে এখানে চলে। সাজ বদলের পালা। নতুন নতুন রঙ-রেখায় প্রকতি আলপনা আঁকে মাটির বুকে, আকাশের গায়ে মানুষের। মনে। তাই ঋতু বদলের সাথে সাথে এখানে জীবনেরও রঙ বদল হয়। সে-কারণেই বু* ** প্রনাথ। ঠাকুরের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়

জগতের মাঝে কত বিচিত্র তুমি হে

তুমি বিচিত্র রূপিণী।

ষড়ঋতুর পরিচয়: পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে ঋতুর সংখ্যা চারটি হলেও বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। এখানে প্রাত দুই মাস অন্তর একটি নতুন ঋতুর আবির্ভাব ঘটে। ঋগলাে হচ্ছে- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শাত ও বসন্ত। এরা চক্রাকারে আবর্তিত হয়। আর প্রত্যেক ঋতুর আবির্ভাবে বাংলাদেশের প্রকৃতির রূপ ও সোন্দ্য বৈচিত্র্যময়।

গ্রীষ্মকাল: ঋতুচক্রের শুরুতেই আসে গ্রীষ্ম। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ দুই মাস গ্রীষ্মকাল। আগুনের মশাল হাতে মাঠ-ঘাট পােড়াতে পােড়াতে গ্রীষ্মরাজের আগমন। তখন আকাশ-বাতাস ধুলায় ধূসরিত হয়ে ওঠে। প্রকৃতির শ্যামল-স্নিগ্ধ। রূপ হারিয়ে যায়। খাল-বিল, নদী-নালা শুকিয়ে যায়। অসহ্য গরমে সমস্ত প্রাণিকুল একটু শীতল পানি ও ছায়ার। জন্য কাতর হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে কখনাে হঠাৎ শুরু হয় কালবােশেখির দুরন্ত তাণ্ডব। ভেঙেচুরে সবকিছু। তছনছ করে দিয়ে যায়। তবে গ্রীষ্ম শুধু পােড়ায় না, অকৃপণ হাতে দান করে আম, জাম, জামরুল, লিচু, তরমুজ ও নারকেলের মতাে অমৃত ফল।

বর্ষাকাল: গ্রীষ্মের পরেই মহাসমারােহে বর্ষা আসে। আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। দিগ্বিজয়ী যােদ্ধার বেশে বর্ষার আবির্ভাব। মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জনে প্রকৃতি থেমে থেমে শিউরে ওঠে। শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। মাঠ-ঘাট পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রকৃতিতে দেখা দেয় মনােরম সজীবতা। জনজীবনে ফিরে আসে প্রশান্তি। কৃষকেরা জমিতে ধান-পাটের বীজ রােপণ করে। গাছে গাছে ফোটে কদম, কেয়া, উঁই। বর্ষায় পাওয়া যায় আনারস, পেয়ারা প্রভৃতি ফল। বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা

শরৎকাল: বাতাসে শিউলি ফুলের সুবাস ছড়িয়ে আসে শরৎ। ভাদ্র-আশ্বিন দুই মাস শরৎকাল। এ সময় বর্ষার কালাে মেঘ সাদা হয়ে স্বচ্ছ নীল আকাশে তুলাের মতাে ভেসে বেড়ায়। নদীর তীরে তীরে বসে সাদা কাশফুলের। মেলা। বিকেল বেলা মালা গেঁথে উড়ে চলে সাদা বকের সারি। সবুজ ঢেউয়ের দোলায় দুলে ওঠে ধানের খেত। রাতের আকাশে জ্বলজ্বল করে অজস্র তারার মেলা। শাপলার হাসিতে বিলের জল ঝলমল ঝলমল করে।

তাই তাে কবি গেয়েছেন

আজিকে তােমার মধুর মুরতি

হেরিনু শারদ প্রভাতে।

হে মাতঃ বঙ্গ, শ্যামল অঙ্গ।

ঝলিছে অমল শােভাতে।

শরতের এই অপরূপ রূপের জন্যই শরৎকে বলা হয় ঋতুর রানি । বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা ।

হেমন্তকাল: ঘরে ঘরে নবান্নের উৎসবের আনন্দ নিয়ে আগমন ঘটে হেমন্তের। কার্তিক-অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। প্রকৃতিতে হেমন্তের রপ হলদ। শর্থ জলে চয় যায়। হেমন্তের রূপ হলুদ। শর্ষে ফুলে ছেয়ে যায় মাঠের বুক। মাঠে মাঠে পাকা ধান। কৃষক ব্যস্ত ধান কাটার কাজে। সােনালি ধানে কৃষকের গােলা ভরে ওঠে, মুখে ফোটে আনন্দের হাসি। শুরু হয় নবান্নের উৎসব। হেমন্ত আসে নীরবে; আবার শীতের কুয়াশার আড়ালে গােপনে হারিয়ে যায়।।

শীতকাল: কুয়াশার চাদর গায়ে উত্তরে হাওয়ার সাথে আসে শীত। পৌষ-মাঘ দুই মাস শীতকাল। শীত রিক্ততার ঋতু। কনকনে শীতের দাপটে মানুষ ও প্রকৃতি অসহায় হয়ে পড়ে। তবে রকমারি শাক-সবজি, ফল ও ফুলের সমারােহে বিষন্ন প্রকৃতি ভরে ওঠে। বাতাসে ভাসে খেজুর রসের ঘ্রাণ। ক্ষীর, পায়েস আর পিঠাপুলির উৎসবে মাতােয়ারা হয় গ্রামবাংলা। বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা । 

বসন্তকাল: সবশেষে বসন্ত আসে রাজবেশে। ফাল্গুন-চৈত্র দুই মাস বসন্তকাল। বসন্ত নিয়ে আসে। সবুজের সমারােহ। বাতাসে মৌ মৌ ফুলের সুবাস। গাছে গাছে কোকিল-পাপিয়ার সুমধুর গান। দখিনা বাতাস বুলিয়ে দেয় শীতল পরশ। মানুষের প্রাণে বেজে ওঠে মিলনের সুর। আনন্দে আত্মহারা কবি গেয়ে ওঠেন।

আহা আজি এ বসন্তে 

এত ফুল ফোটে

এত বাঁশি বাজে

এত পাখি গায়।।

উপসংহার: বাংলাদেশের ষড়ঋতুর এই লীলা অবিরাম চলছে। বিভিন্ন ঋতু প্রকৃতিতে রূপ-রসের বিভিন্ন সম্ভার নিয়ে আসে। তার প্রভাব পড়ে বাংলার মানুষের মনে। বিচিত্র ষড়ঋতুর প্রভাবেই বাংলাদেশের মানুষের মন উদার ও ভালােবাসায় পরিপূর্ণ।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা

শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে আমরা জানলাম বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা । যদি আজকের এই বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা টি ভালো লাগে তাহলে এখনি ফেসবুকে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন আর এই রকমই নিত্যনতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Please do not enter any spam link in the comment box.

আরকে রায়হান নোটিফিকেশন