business loans, commercial loan, auto insurance quotes, motorcycle lawyer

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট Class 9, ssc, hsc

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট জেনে নিবো। তোমরা যদি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা class 9 টি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ssc  টি।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা 

ভূমিকা: মানুষ ভ্রমণ করতে পছন্দ করে। এই পছন্দকে কাজে লাগিয়ে ভ্রমণ-বান্ধব এক ধরনের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যার নাম পর্যটন শিল্প। এই শিল্পের কাজ হলাে কোনাে অঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলাের তথ্য ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে তুলে ধরা, ভ্রমণের সুবন্দোবস্ত করা, এবং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা। বাংলাদেশের একাধিক বনাঞ্চল, পাহাড়-নদী-ঝরনা, শস্যশােভিত মাঠ ও সবুজ প্রকৃতি, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র-সৈকত, নান্দনিক স্থাপত্য ও ভাস্কর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও নিদর্শন প্রভৃতি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

তাই বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা প্রচুর। এগুলাের টানে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটকের বাংলাদেশে আসার সুযােগ রয়েছে। এভাবে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রসমূহের দিকে তাকানাে যাক।

সুন্দরবন: বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ৬ হাজার বর্গকিলােমিটারের অধিক জায়গা জুড়ে সুন্দরবন অবস্থিত। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরগুনা জেলায় এর অবস্থান। সুন্দরী বৃক্ষ, গােলপাতাসহ নানা জাতের উদ্ভিদ এবং চিত্রল হরিণ, বাঘ, বানর, হনুমানসহ নানা জাতের পশুপাখির আবাস এই সুন্দরবন। অভ্যন্তরে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য খালে রয়েছে কুমির। রােমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকগণ নৌযানে করে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভােগ করতে যেতে পারেন। ভয় ও ভালাে-লাগার অপূর্ব মিশেলের কারণে সুন্দরবন ভ্রমণ যে-কোনাে পর্যটকের স্মৃতিতে স্থায়ী হয়ে থাকে।

সিলেটের রাতারগুল: সিলেট জেলার গােয়াইনঘাটে অবস্থিত রাতারগুল জলাবন বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির বন। এর আয়তন ৩ হাজার ৩২৫ একর। ১০ ফুট গভীর পানির উপর বনের গাছপালা জেগে থাকে। বর্ষাকালে পানির গভীরতা হয় ২০-৩০ ফুট পর্যন্ত। পর্যটকগণকে নৌকায় করে বনের মধ্যে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এখানে উপভােগ করার মতাে আছে কদম, হিজল, অর্জুন, ছাতিম প্রভৃতি গাছের সৌন্দর্য। বেড়াতে বেড়াতে দেখা হয়ে যায় বানর, বেজি, গুইসাপ, কিংবা সাদা বক, মাছরাঙা, পানকৌড়ি প্রভৃতি প্রাণী ও পাখির সঙ্গে।

সমুদ্র সৈকতঃ কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম (১২০ কিলােমিটার দীর্ঘ) প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত। সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভােগ করতে পর্যটকরা ভিড় করেন কক্সবাজারে। সমুদ্র ছাড়াও কক্সবাজার জেলায় রয়েছে একাধিক ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ধর্মীয় উপাসনালয় ও বুদ্ধ মূর্তি। স্থাপত্যশিল্পের বিচারে এগুলাে অমূল্য। এছাড়া চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, কক্সবাজারের ইনানি, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, সুন্দরবনের কটকা প্রভৃতি সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণপিপাসুরা বেড়াতে যান। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। সমস্ত দ্বীপ জুড়ে রয়েছে নারিকেল গাছ। দ্বীপ থেকে সমুদ্রের নীল জলরাশির সৌন্দর্য উপভােগ করতে এবং নানা রকমের প্রবাল দেখতে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করেন।

পার্বত্য অঞ্চল: বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাসমূহ অর্থাৎ রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাক্ষেত্র। একদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে মেঘ ছোঁয়ার আনন্দ, অন্যদিকে প্রাকৃতিক জলের উত্স ঝরনাধারা পর্যটকদের অভিভূত করে। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নৌকায় ভেসে বেড়ানাে যায়। হ্রদের উপরে একটি সুদৃশ্য ঝুলন্ত সেতু রয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত আলুটিলা পাহাড়, রিসাং ঝরনা, মায়াবিনী লেক প্রভৃতি স্থানে ভ্রমণের হাতছানি পর্যটকরা অগ্রাহ্য করতে পারে না। সিলেটের জাফলং-এর পিয়াইন নদীতে মননামুগ্ধকর পাথুরে জলের ধারা, মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড ঝরনা; হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড়ের চা বাগান; শ্রীমঙ্গলের ইকোপার্ক প্রভৃতি স্থান প্রায় সারাবছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। এ অঞ্চলসমূহে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষদের বর্ণিল জীবনাচারও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বাংলাদেশের একমাত্র পার্বত্য দ্বীপ মহেশখালী। বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির ও বড়াে রাখাইনপাড়া বৌদ্ধ মন্দির এই দ্বীপেই অবস্থিত।

পুরাকীর্তি: বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলাের রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব। পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত মুঘল স্থাপত্য লালবাগ কেল্লা, বুড়িগঙ্গার তীরে নির্মিত আহসান মঞ্জিল, নারায়ণগঞ্জের সােনারগাঁও-এ গড়ে ওঠা অনুপম স্থাপত্য শৈলীবিশিষ্ট পানাম নগর, কুমিল্লায় আবিষ্কৃত প্রাচীন নগর ময়নামতী, বগুড়ার প্রাচীন পুরাকীর্তি মহাস্থানগড়, নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার অন্তর্গত আড়াই হাজার বছর পূর্বের প্রত্ননিদর্শন সংবলিত উয়ারী ও বটেশ্বর গ্রাম, নওগাঁ জেলায় আবিষ্কৃত পৃথিবীর সবচেয়ে বড়াে বৌদ্ধবিহার পাহাড়পুর, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যকলার বহু নিদর্শন।

ঐতিহাসিক স্থাপনা: আরেক শ্রেণির স্থাপত্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। ১৯৫২ সালে সংঘটিত ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল প্রাঙ্গণে স্থাপিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহিদদের প্রতি নিবেদিত ও ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর, গােপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর নিহত বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ঢাকার মিরপুরে নির্মিত বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, ঢাকার সােহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং এই উদ্যানে স্থাপিত স্বাধীনতা জাদুঘর ইতিহাসপ্রেমী পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অবস্থা: পর্যটন বিশ্বব্যাপী একটি সম্ভবনাময় খাত। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের সম্মিলিত বার্ষিক ভ্রমণ-ব্যয় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এমন অনেক দেশ রয়েছে, যার প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দিনে দিনে বিকাশ লাভ করছে। একদিকে বিদেশি পর্যটকদের আগমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়িয়ে তুলছে, অন্যদিকে দেশীয় পর্যটকদের ভ্রমণ সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতি বছর ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ দেশীয় পর্যটক বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে। এদের বেশির ভাগই মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটক বিভিন্ন স্থানে চলাচল করায় পর্যটনের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনীতি গতি লাভ করে। পরিবহণ, আবাসিক হােটেল, রেস্তোরাঁ, পােশাক, অলংকার প্রভৃতি ব্যবসায় পর্যটন শিল্পের বিকাশের সঙ্গে জড়িত। পর্যটনের বিকাশে অসংখ্য মানুষের জীবিকার সংস্থান হয়। বর্তমানে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে। অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, পর্যটন শিল্প থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি অর্জন করা সম্ভব।

পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব: একটি দেশের পর্যটন শিল্প বিকশিত হলে সেই দেশের সংস্কৃতিও সমৃদ্ধ হয়। পর্যটন এলাকায় অধিবাসীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্বিত হয়। পর্যটকদের আগ্রহ রয়েছে এমন স্থান, স্থাপনা বা বিষয়ের প্রতি স্থানীয় অধিবাসীদেরও শ্রদ্ধাশীল করে তােলে। তারা নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় তাগিদ অনুভব করে। এছাড়া পর্যটনের সূত্রে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মেলবন্ধন একটি মানবিক বিশ্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যটন শিল্পের বিকাশে করণীয়: পৃথিবী ব্যাপী পর্যটন শিল্প এখন দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। বাংলাদেশে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি নজর দিলে পর্যটন এলাকাগুলােতে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়বে। প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে। উন্নত পথ ও যানবাহনের ব্যবস্থা না থাকলে পর্যটকরা নিরুৎসাহিত হবেন, এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ বেশকিছু পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছানাের সহজ পথ ও যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। পর্যটনকেন্দ্রগুলােতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটকরা যাতে নির্ভয়ে ও নিঃসঙ্কোচে ভ্রমণ করতে পারে, তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। অতিরিক্ত ভ্রমণ-ব্যয় পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে। তাই, যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় যাতে সীমার মধ্যে থাকে তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। 

উপসংহার: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থাপত্যকলা, স্থানীয় অধিবাসীদের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন ও সংস্কৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট। তবে পর্যটনকে একটি শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ও স্থায়ী রূপ দিতে দরকার রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও এর প্রয়ােগ। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রের অধিবাসীদেরও পর্যটকদের সহযােগিতায় সম্পৃক্ত করা উচিত। পর্যটকদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সহযােগিতা দেওয়া গেলে ভ্রমণের প্রতি তাদের উত্সাহ আরাে বাড়বে। এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের মানবিক সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যের পরিচয় বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকা আরাে গতিশীল হবে।।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা

ভূমিকা: পৃথিবীব্যাপী জ্ঞানী ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ ছোটে লোক থেকে লোকান্তরে, দেশ থেকে দেশান্তরে। প্রতিনিয়ত মানুষ জানতে চায়, বুঝতে চায়, জয় করতে চায় অজানাকে। তাই তো দেখি হিমালয়, চাঁদের মতো দুর্গম স্থানকে মানুষ জয় করেছে। পুরাতাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে গবেষণা করে উপহার দিয়েছে নতুন পৃথিবী। এ প্রসঙ্গে মহানবির একটি বাণী উল্লেখযোগ্য 'জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীন পর্যন্ত যাও'। অর্থাৎ জ্ঞানের জন্য, জানার জন্য সমস্ত বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করতে হয়। পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মতো বাংলাদেশেরও আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্থান, অসংখ্য স্থাপত্য। পরিবর্তনশীল ষড়ঋতুর এ দেশ পৃথিবীর বুকে অন্যতম বৈচিত্র্যময় একটি দেশ। তাই দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বলেছেন, 'সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি' । বাংলাদেশের অনেক জায়গায় রয়েছে ঐতিহ্যময় পর্যটন স্থান। বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতার সাথে গলা মিলিয়ে আমরাও বলতে পারি যে, পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ রূপময়ী ও সমৃদ্ধিশালী জাতি ও দেশ হচ্ছে বাঙালি ও বাঙালির দেশ। বাংলাদেশের প্রকৃতি এবং বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার উপায় হচ্ছে পর্যটন ।

পর্যটনশিল্পের গুরুত্ব: অন্যান্য শিল্পের মতো পর্যটনও একটি শিল্প। কথায় আছে, 'গ্রন্থগত বিদ্যা আর পর হস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন।' আসলে জীবনভর ভারী ভারী বইপুস্তক পড়ে যতটুকু শেখা সম্ভব তার চেয়ে বেশি সম্ভব যদি চোখে দেখা যায়। কারণ মানুষ তার জ্ঞানের শতকরা ৭০ ভাগ চোখ নামক ইন্দ্রিয় দিয়ে অর্জন করে। যে আগ্রার তাজমহল কিংবা মিশরের পিরামিড বা নায়াগ্রার জলপ্রপাত চোখে দেখেনি, সে শুধু বই পড়ে তার মর্মার্থ বুঝতে অপারগ। সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ জ্ঞানপিপাসু। মানুষ ও তার কীর্তি সম্পর্কে এবং প্রকৃতি ও তার মহিমার অজানা রহস্য পর্যটনের মাধ্যমেই জানা যায় । আদিবাসীদের জীবনযাপনের বৈশিষ্ট্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে মানুষ পর্যটনশিল্পের মাধ্যমে জানতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের আচার-আচরণ, স্থান, সৌন্দর্য, পোশাক- পরিচ্ছদ, রীতিনীতি, আকৃতি-প্রকৃতি, প্রাচীনত্বের নিদর্শন, পশুপাখি প্রভৃতি সম্পর্কে পর্যটনশিল্পের মাধ্যমেই জানা যায়। অতএব দেখা যায়, পর্যটনশিল্পের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশের পর্যটন স্থান: বাংলাদেশকে কেউ কেউ বলেছেন চির সুন্দরী, কেউ বলেছেন চিরসবুজ, কেউ বলেছেন সকল দেশের রানি, কেউবা আবার তুলনা করেছেন সোনার কাঠি, রুপার কাঠির সাথে। অর্থাৎ আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে পৃথিবীর বড়ো বড়ো পণ্ডিত বিভিন্নভাবে সুন্দরের ব্যাখ্যা করেছেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের মতো বাংলাদেশকে নিয়েও ‘মায়াপুরী'র স্বপ্ন দেখে মানুষ। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য ছাড়াও সবুজ-শ্যামল স্নিগ্ধ প্রকৃতি মানুষকে সহজেই আকর্ষণ করে। বাংলাদেশের প্রকৃতি হচ্ছে মাতৃত্বের মতো শান্ত স্নেহদায়ী। উগ্র, নম্র সকলকেই তা ঘুম পাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্থান। পাহাড়পুর, রাঙামাটি, সাগরদিঘি, ময়নামতি, কুয়াকাটা, পাথরঘাটা, সোনারগাঁ, বান্দরবান, সুন্দরবনসহ আরও অসংখ্য পর্যটনের স্থান ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত রয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারে । বাংলাদেশের এক দিকে সুউচ্চ পাহাড় অন্যদিকে বিশাল জলরাশি। যা সহজেই পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশে খোদ রাজধানীতে রয়েছে অসংখ্য ইতিহাস-আশ্রিত ঐতিহ্যময় স্থান এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ স্থান। তাই সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন—

“নাগের বাঘের পাহারাতে হচ্ছে বদল দিনে রাতে

পাহাড় তারে আড়াল করে সাগর যে তার ধোয়ায় পাটি।'

পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা: বাংলাদেশে ইতিপূর্বে পর্যটকদের জন্য কোনো নির্দিষ্টি সুযোগ-সুবিধা ছিল না। তার পরও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক মুগ্ধ হয়ে আসত শুধু প্রকৃতি অবলোকনের জন্য। সম্প্রতি সরকার পর্যটকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন স্থানে হোটেল ও মোটেল করেছে। বিভিন্ন বেসরকারি হোটেলের চেয়ে এসব সরকারি হোটেলে অত্যন্ত কমমূল্যে সিট রিজার্ভেশন সুবিধা দিয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের যানবাহনের ব্যবস্থা করেছে। পর্যটনশিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশের পর্যটন কর্পোরেশন। পর্যটকদের যাবতীয় সমস্যার সমাধান ও সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাই এর প্রাথমিক কাজ ।

পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে পর্যটন করপোরেশনের দায়িত্ব : বাংলাদেশ পর্যটনশিল্পে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য দুর্লভ এবং সুন্দর স্থান। এ স্থানগুলোকে সংরক্ষণের জন্য = পর্যটন করপোরেশনের বিশেষ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের পর্যটন স্থানগুলোকে বিশ্বের মানুষের চোখের সামনে তুলে ধরতে হবে। থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং যাতায়াতব্যবস্থা সহজ ও স্বল্পব্যয়ের আওতায় আনতে হবে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই পর্যটনশিল্পে বাংলাদেশের স্থান বিশ্বের সুউচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে পর্যটন করপোরেশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য অপরিসীম।

উপসংহার: প্রখ্যাত শিল্পী, সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় আধুনিক পর্যটন শিল্পনগরী ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন— 'অর্ধেক সুন্দরী তুমি, অর্ধেক কল্পনা।' তাঁর এ মন্তব্য সম্পর্কে আমরাও বলতে পারি, প্যারিসের অর্ধেক সৌন্দর্যকে কল্পনা করে নিতে হয় অথচ আমাদের বাংলাদেশের সবুজ-শ্যামল সৌন্দর্যকে কল্পনা করে নিতে হয় না । তা একই সাথে দৃশ্যমান ও অনুভব্য। বাংলাদেশের পর্যটন স্থানের সৌন্দর্যের তুলনা হয় না। বাংলাদেশে পর্যটন করপোরেশন, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সর্বোপরি সকলেই একটু সচেতন হলে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আসনে আসীন হবে ।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা hsc

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট  টি। যদি তোমাদের আজকের এই বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনার পয়েন্ট  টি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট Class 9, ssc, hsc, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা class 9, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ssc, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা pdf, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা hsc, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনার পয়েন্ট

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url