অপটিক্যাল ফাইবার কি | অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার সুবিধা অসুবিধা

হ্যালো বন্ধু আপনি কি জানতে চান অপটিক্যাল ফাইবার কি বা অপটিক্যাল ফাইবার কাকে বলে? অথবা অপটিক্যাল ফাইবারের স্তর কয়টি বা অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার ও কি কি তাহলে চোখ আমাদের এই আর্টিকেলে। কারন আমরা আজকে কোরের ব্যাস অনুযায়ী ফাইবার অপটিককে আবার দু'ভাগে ভাগ করা যায়, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এর বৈশিষ্ট্য, অপটিক্যাল ফাইবার এর সুবিধা, সাবমেরিন ক্যাবল বাংলাদেশ বা অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার সম্পর্কে জানবো।।

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আমি আরকে রায়হান। আপনি দেখছেন আর কে রায়হান ওয়েবসাইটের অপটিক্যাল ফাইবার কি ও অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার এবং অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা অসুবিধা সহ আরো অনেক কিছু। 

অপটিক্যাল ফাইবার কি | অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার সুবিধা অসুবিধা
অপটিক্যাল ফাইবার কি | অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার সুবিধা অসুবিধা

অপটিক্যাল ফাইবার কি অনেক লোকজন জানে না। তাছাড়াও অপটিক্যাল ফাইবার কি কাজে ব্যবহৃত হয় সেটাও জানে না। নো টেনশন কারন আমরা আছি আপনাকে ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। অপটিক্যাল ফাইবার কি এটা জানার পাশাপাশি আমরা আরো জানবো অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এর বৈশিষ্ট্য, অপটিক্যাল ফাইবার এর সুবিধা, সাবমেরিন ক্যাবল বাংলাদেশ, অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার ও অপটিক্যাল ফাইবার দ্রুত গতিতে ডেটা আদান প্রদান করে বুঝিয়ে বল এবং অপটিক্যাল ফাইবারের প্রধান উপাদান কোনটি? 

অপটিক্যাল ফাইবার কি ও অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার এবং অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা অসুবিধা সহ জানার আগে আমরা আজকের এই লেখাটির সুচিপত্র টি এক নজরে দেখে নিই।

সুচিপত্রঃ অপটিক্যাল ফাইবার কি | অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার | Optical Fiber Advantages

অপটিক্যাল ফাইবার কি | অপটিক্যাল ফাইবার কাকে বলে (Fiber Optic Cable) 

ফাইবার অপটিক বা অপটিক্যাল ফাইবার হলাে অত্যন্ত সরু এক ধরনের কাচের তন্তু। ডাই-ইলেক্ট্রনিক অন্তরক পদার্থ দিয়ে তৈরি কাচের তন্তুর মধ্যে দিয়ে আলাের গতিতে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল অত্যন্ত দ্রুত ডেটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার কাজ করে। এ ক্যাবলের বিশেষত্ব হলাে, এটি ইলেক্ট্রনিক্যাল সিগন্যালের পরিবর্তে আলােক বা লাইট সিগন্যাল ট্রান্সমিট করে। আর এ কাজে ব্যবহৃত হয় ফাইবারের অভ্যন্তরে গ্লাস বা প্লাস্টিক কোর। এ ক্যাবলের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে পৃথিবীর সব দেশেই অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একে অন্যের সাথে সংযুক্ত হয়ে উন্নত যােগাযােগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতর দিয়ে অনেক বেশি সিগন্যাল পাঠানাে সম্ভব। এতে একসাথে কয়েক লক্ষ টেলিফোন কল পাঠানাে সম্ভব। বিপুল পরিমাণ ডেটা পরিবহণে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে আন্তঃমহাদেশীয় ফাইবার অপটিক্যাল স্থাপিত হয়েছে। এ ধরনের ফাইবারকে সাবমেরিন ক্যাবল বলা হয়। নন-মেটালিক ক্যাবল মাধ্যম হলাে অপটিক্যাল ফাইবার।।

অপটিক্যাল ফাইবারের স্তর কয়টি | অপটিক্যাল ফাইবারের কয়টি স্তর থাকে (Structure of Fiber Optic Cable)

অপটিক্যাল ফাইবারের ৩টি স্তর থাকে। Optical Fiber Types যথা- 

  • কোর (Core), 
  • ক্ল্যাডিং (Cladding) এবং 
  • জ্যাকেট (Jacket) 

১. কোর (Core) : কোর হলাে সবচেয়ে ভেতরের স্তর, যার মধ্য দিয়ে আলােক সিগন্যাল সঞ্চালন করে। এটি সিলিকা মাল্টিকম্পােনেন্ট কাচ বা স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। কোরের ব্যাস ৮ থেকে ১০০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। (১ মাইক্রোমিটার/মাইক্রোন = ১০৬ মিটার] 

২. ক্ল্যাডিং (Cladding) : কোরকে ঘিরে থাকা বাইরের স্তরটি হচ্ছে ক্ল্যাডিং, যা কাচের তৈরি। এটি কোর থেকে নির্গত আলােকরশ্মি প্রতিফলিত করে তা পুনরায় কোরে ফেরত পাঠায়। এ স্তরটি ক্ল্যাডিং নামে পরিচিত। ক্ল্যাডিং-এর ব্যাস ১২৫ মাইক্রোমিটার। 

৩, জ্যাকেট (Jacket) : প্রতিটি ক্ল্যাডিং-এর উপর প্লাস্টিক দিয়ে মােড়ানাে আবরণটিকে জ্যাকেট (Jacket) বলা হয়। এটি ফাইবার অপটিক তারকে ঘর্ষণ, মরিচা, জলীয় বাষ্প থেকে রক্ষা করে। এখানে ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপাদানসমূহের। মধ্যে রয়েছে PVC (Polyvinyl Chloride), পলিইথিলিন (Polyethylene), পলিইউরেথিন (Polyurethane), পলিয়ামাইড (Polyamide) ইত্যাদি।

ফাইবার অপটিক ক্যাবল-এর প্রকারভেদ (Classification of Fiber Optic Cables) | অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার

ফাইবারের গাঠনিক উপাদানের প্রতিসরাঙ্কের উপর নির্ভর করে ফাইবার অপটিককে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : 

  • স্টেপ-ইনডেক্স ফাইবার (Step-Index Fiber) : কোরের প্রতিসরাঙ্ক সর্বত্র সমান থাকে এবং ব্যাস বেশি। 
  • গ্রেডেড-ইনডেক্স ফাইবার (Graded-Index Fiber) : কোরের প্রতিসরাঙ্ক কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি এবং ব্যাসার্ধ বরাবর কমতে থাকে। 
  • মনােমােড় ফাইবার (Monomode Fiber) : Single wavelength এ লাইট ক্যারি করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। 

কোরের ব্যাস অনুযায়ী ফাইবার অপটিককে আবার দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :

  • ১. মাল্টিমােড ফাইবার (Multimode Fiber) ; কোর সাইজ ৬২.৫/১২৫ মাইক্রোন। এ ফাইবার দিয়ে বিভিন্ন তরঙ্গ। | দৈর্ঘ্যের আলােকরশ্মি পাঠানাে যায় এবং একসাথে একাধিক ট্রান্সমিশন হতে পারে। 
  • ২. সিঙ্গেলমােড ফাইবার (Singlemode Fiber) : কোর সাইজ ৮/১২৫ মাইক্রোন। এ ফাইবার দিয়ে শুধুমাত্র একটি ট্রান্সমিশন ঘটতে পারে।

অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এর বৈশিষ্ট্য | অপটিক্যাল ফাইবারের বৈশিষ্ট্য

  • এর গতি আলাের গতির সমান। 
  • একসাথে একাধিক তথ্য প্রেরণ করা যায়। 
  • শক্তির অপচয় হয় না বলা চলে। 
  • রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা।

অপটিক্যাল ফাইবার এর সুবিধা | অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের সুবিধা হলো

  • আলাের গতিতে ডেটা ট্রান্সমিট হয় বলে সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতিসম্পন্ন। 
  • উচ্চ ব্যান্ডউইথসম্পন্ন। 
  • নেটওয়ার্ক ব্যাকবােন হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
  • ডেটা পরিবহনে কম শক্তি ক্ষয় করে 
  • মানের অবনতি বা এন্টিনিউয়েশন ঘটে না। 
  • পরিবেশের তাপ, চাপ ইত্যাদি ডেটা চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। 
  • আকারে ছােট এবং ওজন অত্যন্ত কম। 
  • বিদ্যুৎ চৌম্বক প্রভাব মুক্ত (EMI নেই)। 
  • ডেটা সংরক্ষণের নিরাপত্তা ও গােপনীয়তা বেশি।

সাবমেরিন ক্যাবল বাংলাদেশ | সাবমেরিন ক্যাবল কি

সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে স্থাপিত আন্তঃমহাদেশীয় ফাইবার অপটিক কমিউনিকেশনের। সাথে ২০০৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সংযুক্ত হয়। ১৬টি দেশ নিয়ে গঠিত SEA-ME-WE4 প্রজেক্টের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সংযােগ পায় এবং বঙ্গোপসাগরের নিচ দিয়ে বিস্তৃত এই ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করা হয়। কক্সবাজার শহরে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে প্রাপ্ত হাই স্পিড ইন্টারনেট সারা দেশে ছড়িয়ে দেবার উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০০৮ সালে সাবমেরিন ক্যাবল প্রজেক্টের বাংলাদেশ অংশের দায়িত্ব অর্পিত হয় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (BSCCL) এর উপর। সরকারি। টেলিকমিউনিকেশন বাের্ডের অধীন এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সারা বাংলাদেশে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ের দ্বারা বাংলাদেশে। ইন্টারনেটের সকল তথ্য বণ্টন এবং ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাংলাদেশে সংযুক্ত এই সাবমেরিন ক্যাবল কানেকশন সাবমেরিন ক্যাবল-১ নামে পরিচিত। অতি শীঘ্রই সম্ভবত ২০১৯ সাল নাগাদ বাংলাদেশ SEA-ME-WE 5 প্রজেক্টের মাধ্যমে ২য় সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা বর্তমান ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ এর দ্বিগুণ পরিমাণ ব্যান্ডউইথ দিতে সক্ষম হবে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সীমা ২৪ গিগাবাইট।

অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার | অপটিক্যাল ফাইবার এর ব্যবহার | অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের ক্ষেত্র কোনটি

  • টেলিকমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে পৃথিবীর সকল মহাদেশের মধ্যে সংযােগ স্থাপনে। 
  • বিভিন্ন ধরনের শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক সেন্সর তৈরিতে।
  • সীমিতভাবে কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ পরিবহনে। 
  • বিভিন্ন মেডিক্যাল ডিভাইস যেমন এন্ডােস্কোপ ইত্যাদি তৈরিতে।।

অপটিক্যাল ফাইবার দ্রুত গতিতে ডেটা আদান প্রদান করে বুঝিয়ে বল / লেখ

দীর্ঘ দূরত্বে ডেটা পরিবহনের ক্ষেত্রে ধাতব মাধ্যমে (কপার) ইএমআই ও এটিনুয়েশনের কারণে ট্রান্সমিশন রেট হ্রাস পায়। কিন্তু অপটিক্যাল ফাইবার মাধ্যমের উপর ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড, অন্য কোনাে সিগন্যাল কিংবা প্রাকৃতিক প্রতিকলতার। প্রভাব নেই বিধায় এর মাধ্যমে বাধাহীন এবং অপরিবর্তিতভাবে ডেটা প্রবাহিত হতে পারে। এর ডেটা ট্রান্সফার রেট ও কোয়ালিটি অন্যান্য যে কোনাে ক্যাবলের তুলনায় দ্রুত ও নিরাপদ থাকে। কপার ক্যাবলকে খুব সহজেই ট্যাপ করা যায়। কিন্তু অপটিক ফাইবার ক্যাবল ট্যাপ করা অত্যন্ত কঠিন। অন্যদিকে অপটিক্যাল ফাইবার মাধ্যমটি রাসায়নিকভাবে নিক্রিয় এবং রেডিয়েশনমুক্ত হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব মাধ্যমও বটে।

অপটিক্যাল ফাইবারের প্রধান উপাদান কোনটি | Optical Fiber Structure

ফাইবার তৈরির অন্তরক পদার্থ হিসেবে সিলিকা এবং মাল্টি কম্পােনেন্ট কাচ বহুলভাবে ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে সাধারণ কাচ ব্যবহার করা হয়না কেননা সাধারণ কাচ মাধ্যমে আলােকরশ্মি পরিবহনের স্বল্প দূরত্ব অতিক্রমেই এর শক্তি নিঃশেষিত হয়ে যায়। এছাড়া সাধারণ কাঁচের স্বচ্ছতাও অপটিক্যাল কমিউনিকেশনের যথেষ্ট উপযােগী মানের হয় না। অপটিক্যাল ফাইবার তৈরিতে ব্যবহৃত অন্তরক পদার্থের গুণগত বৈশিষ্ট্যগুলাের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য হলাে- অতি স্বচ্ছতা, রাসায়নিক সুস্থিরতা বা নিষ্ক্রিয়তা এবং সহজ প্রক্রিয়াকরণযােগ্যতা। ফাইবার তৈরির জন্য সােডা বােরাে সিলিকেট, সােডা লাইম সিলিকেট, সােডা অ্যালুমিনা সিলিকেট ইত্যাদি মাল্টি কম্পােনেন্ট কাচগুলাে বেশি ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও ফাইবারের ক্ল্যাডিং হিসেবে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে পূর্ণ প্লাস্টিক ফাইবারের ব্যবহারও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এগুলােকে পলিমার ফাইবার বলা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোর তৈরির জন্য মেথি মেথাক্রিলেট (Methy Methacrylate) পলিমারের তৈরি অ্যাক্রেলিক এবং পলিস্টাইরেন (Polystyrene) ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। যে কোনাে দূরত্বে ডেটা কমিউনিকেশনের জন্য মাল্টি কম্পােনেন্ট কাচের তৈরি অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হলেও স্বল্প দূরত্বে ডেটা কমিউনিকেশনে ইদানিং পূর্ণ প্লাস্টিকের তৈরি অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হচ্ছে।

অপটিক্যাল ফাইবারের মধ্য দিয়ে যেভাবে ডেটা পরিবাহিত হয় 

অপটিক্যাল ফাইবার কমিউনিকেশনেও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থার মতাে তিনটি অংশ রয়েছে। এগুলাে হলাে- প্রেরক যন্ত্র, প্রেরণ মাধ্যম এবং গ্রাহক যন্ত্র। প্রেরক যন্ত্রের মাধ্যমে অ্যানালগ বা ডিজিটাল (ইলেকট্রনিক) সংকেতকে প্রয়ােজনীয় মডুলেশন করে আলােক তরঙ্গ হিসেবে রূপান্তর করা হয় এবং ফাইবার অপটিকে তা প্রেরণ করা হয়। ফাইবার অপটিকের মধ্য দিয়ে এই এনকোডেড বা মডুলেটেড আলােকরশ্মি পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে গ্রাহকযন্ত্রে পৌছানাের জন্য। পরিবাহিত হয়। অপটিক ফাইবারের একেবারে ভেতরের অংশটি হলাে কোর যা অত্যন্ত স্বচ্ছ কাচ দিয়ে তৈরি। এর। প্রতিসরাঙ্ক (Refractive Index) অনেক বেশি থাকে। অন্যদিকে কোরের উপরে যে ক্ল্যাডিং থাকে তা সাধারণ কাচ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি যার প্রতিসরাঙ্ক অনেক কম থাকে । অপটিক ফাইবারে বেশি প্রতিসরাঙ্কের কোর অংশ থেকে আলাে যখন কম প্রতিসরাঙ্কের ক্ল্যাডিং অংশের দিকে গমন করে তখন তা ক্ল্যাডিং মাধ্যম দিয়ে প্রতিসরিত না হয়ে বরং পূর্ণমাত্রায় প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় কোর অংশে ফিরে আসে। কিন্তু পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের নিয়মানুসারে এটি ততক্ষণে অনেকখানি দূরত্ব (প্রায় ১০ কি.মি) অতিক্রম করে ফেলে। এভাবেই অপটিক্যাল ফাইবারের মধ্য দিয়ে আলাের পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে খুব কম লসে ডেটা অধিক পরিমাণ দূরত্বে পরিভ্রমণ করে। এভাবে আলােক সিগন্যাল ফাইবার অপটিক মাধ্যম দিয়ে গ্রাহক যন্ত্রে পৌছায়। গ্রাহক যন্ত্রের ফটো ডিটেক্টর এবং প্রসেসিং ইউনিট নামে দু'টো অংশ থাকে। এর মধ্যে ফটো ডিটেক্টরটি ফাইবার অপটিক থেকে ডেটাকে উদ্ধার করে। আর প্রসেসিং ইউনিট ডেটাকে অ্যাম্পুিফিকেশন, ফিল্টারেশন, ডিমডুলেশন করে ব্যবহারকারীর কাছে পৌছে দেয়।

আলাের পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফল 

আলােকরশ্মি সাধারণত এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় আলাের পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে। আলােকরশ্মি যখন বেশি প্রতিসরাঙ্ক থেকে কম প্রতিসরাঙ্কের মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন আপতিত আলােকরশ্মির কৌণিক দূরত্ব ৯০ ডিগ্রির চেয়ে বেশি হয়। আবার এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে আলাে প্রতিসরিত হয়ে বের হয়ে যাবার জন্য। একটি নির্দিষ্ট কৌণিক দূরত্বে আলােকরশ্মিকে গমন করতে হয়। একে বলা হয় ঐ বস্তু বা ম্যাটেরিয়ালের ক্রিটিক্যাল এ্যাঙ্গেল। আপতিত। আলােকরশ্মির কৌণিক দূরত্ব এক্ষেত্রে এতাে বেশি হয় যা এই ক্রিটিক্যাল অ্যাঙ্গেলের চেয়ে বেশি থাকে। ফলে আলাে ঐ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে একটুও প্রতিসরিত হয়ে বের হতে না পেরে ঐ মাধ্যমেই আটকা পড়ে এবং প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসে। এই বিষয়টিকেই আলাের পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

নেটওয়ার্ক ব্যাকবােন ও ব্যাকবােন ক্যাবল 

ডেটা কমিউনিকেশনে নেটওয়ার্ক ব্যাকবােন বলতে নেটওয়ার্কের সর্ববৃহৎ একটি নালিকা বা পাইপকে (ক্যাবল অথবা অন্য কোনাে কমিউনিকেশন চ্যানেল) বােঝায় যেটি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতিতে সর্বাধিক ডেটা ট্রাফিক বহন করতে এবং একই সাথে উক্ত নেটওয়ার্কের সকল মেইন সার্ভার এবং ডিভাইসসমূহকে সংযুক্ত করতে সক্ষম। প্রকৃতপক্ষে ব্যাকৰােন হলাে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটি অংশ যা ঐ নেটওয়ার্কের সকল অংশকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে নেটওয়ার্কে থাকা বিভিন্ন ল্যান ও সাবনেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের পথকে সুগম করে। একই বিল্ডিং কিংবা কোন ক্যাম্পাসে থাকা একাধিক বিল্ডিং বা এর চেয়েও সুবিস্তৃত স্থানে থাকা বিভিন্ন ডিভাইস বা কম্পিউটারগুলােকে একই নেটওয়ার্কে একত্রে সংযুক্ত করার। জন্য সাধারণত ব্যাকবােন ব্যবহার করা হয়।

নেটওয়ার্ক ক্যাবল কিংবা ব্যাকবােন হিসেবে ফাইবার অপটিক

আধুনিক নেটওয়ার্কে ব্যাকবােন ক্যাবল হিসেবে তাে বটেই, এমনকি সাধারণ নেটওয়ার্কের ক্যাবলিং সিস্টেম হিসেবেও ইদানিং ফাইবার অপটিক অত্যন্ত জনপ্রিয়। কপার ক্যাব লর চেয়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল। ইনস্টলেশন পদ্ধতি সত্ত্বেও নেটওয়ার্কে ব্যাকবােন ক্যাবল হিসেবে ফাইবার অপটিক অধিকতর জনপ্রিয়। এটি কপার ক্যাবলের তুলনায় অনেক বেশি হালকা, পাতলা এবং টেকসই।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ অপটিক্যাল ফাইবার কি | অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার | Optical Fiber Advantages

বন্ধুরা আমরা আজকের আর্টিকেলে অপটিক্যাল ফাইবার কি ও অপটিক্যাল ফাইবার কত প্রকার এবং অপটিক্যাল ফাইবার এর সুবিধা জানলাম। আশা করি আজকের এই  অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এর বৈশিষ্ট্য ও অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার কি তা বুঝতে পেরেছেন।

যদি আজকের এই অপটিক্যাল ফাইবারের স্তর কয়টি, কোরের ব্যাস অনুযায়ী ফাইবার অপটিককে আবার দু'ভাগে ভাগ করা যায়, অপটিক্যাল ফাইবারের প্রধান উপাদান কোনটি ও সাবমেরিন ক্যাবল বাংলাদেশ এবং অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এর বৈশিষ্ট্য ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার ও কমেন্ট করতে ভুলবেন না।

আর এই রকম নিত্য নতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের সবার প্রিয় সাইট আর কে রায়হান ডট কম ভিজিট করতে একবারেই ভুলে যাবেন না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url