অনুকল্প যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো অনুকল্প যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর জেনে নিবো। তোমরা যদি পড়াটি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের প্রকল্প পরীক্ষণের ধাপগুলো কী কী? সংক্ষেপে লেখ।

অনুকল্প যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর
অনুকল্প যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর

অনুকল্প যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর

  • অথবা, প্রকল্প পরীক্ষণের ধাপগুলো কী কী? সংক্ষেপে লেখ।
  • অথবা, পূর্বানুমান যাচাইয়ের ধাপসমূহ বর্ণনা কর।

উত্তর ভূমিকা : সাধারণ কোনো বিষয়ের অনুসন্ধান প্রস্তুত এবং পরস্পর সংযুক্ত তথ্যাবলির সংখ্যাভিত্তিক বিবৃতি প্রদান করা পরিসংখ্যানের অন্যতম কাজ। 

সাধারণত সামাজিক গবেষণায় সবসময় সমগ্রক নিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। এজন্য সমগ্রকের প্রতিনিধিত্বশীল নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যার মাধ্যমে সমগ্রের কিছু অংশ পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান করে সমগ্রক সম্পর্কে ধারণা করা হয়।

© পূর্বানুমান যাচাইয়ের ধাপসমূহ : পূর্বানুমান সামাজিক গবেষণার একটি অন্যতম প্রধান উপাদান । সাধারণত পূর্বানুমান যাচাইয়ের জন্য নিম্নলিখিত ধাপসমূহ অনুসরণ করতে হয়। যথা :

১. অনুমান বা কল্পনা গঠন করা : অনুমান যাচাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একটি অনুমান গঠন করা। পরীক্ষকের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য অনুমান পরীক্ষায় দুই ধরনের অনুমান গঠন করা হয়ে থাকে।

ক. নাস্তি কল্পনা : যে পরিসংখ্যানিক অনুমান সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গৃহীত হয় তাকে নাস্তি কল্পনা বলা হয়। নাস্তি কল্পনাকে Hg দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এই কল্পনায় প্রকাশ করা হয় যে, নমুনার মান এবং সমগ্রকের মানের মধ্যে প্রকৃত কোনো পার্থক্য নেই, 

যদি কোনো পার্থক্য থাকে তাহলে সেটা দৈবক্রমে। নাস্তি কল্পনা বাতিল হলে বুঝতে হবে, তাদের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য আছে এবং গ্রহণ করলে বুঝতে হবে তাদের মধ্যে পার্থক্য নেই।

খ. বিকল্প কল্পনা : এটি নাস্তি কল্পনার বিকল্প কল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ নাস্তি কল্পনার বিপক্ষে যে কল্পনা গ্রহণ করা হয় তাকে বিকল্প কল্পনা বলে। 

বিকল্প কল্পনাকে H, দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। নাস্তি কল্পনার দ্বারা বুঝানো হয় যে, পরামান ও নমুনাজমানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিকল্প অনুমান দ্বারা বুঝানো হয় পার্থক্য আছে।

২. গ্রহণযোগ্য যথার্থতার মাত্রা নির্ধারণ : অনুমান পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপ হলো একটি গ্রহণযোগ্য যথার্থতার মাত্রা নির্ধারণ করা এবং এ যথার্থতার ওপর নাস্তি কল্পনা গ্রহণ বা বর্জন নির্ভর করে। যথার্থতার সীমাকে ax (আলফা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। 

কোনো পরিমাপে নমুনা গ্রহণের আগেই যথার্থতার সীমা কী হবে তা নির্ধারণ করা হয়। যাতে করে পরীক্ষকের দ্বারা ফলাফল প্রভাবিত হতে না পারে। যথার্থতার সীমা অনুমান গ্রহণ এবং বর্জন করার মধ্যে দিয়ে একটি সীমারেখা প্রদান করে।

৩. উপযুক্ত নমুনা যাচাই : অনুমান যাচাইয়ের এ পর্যায়ে উপযুক্ত সূত্র নির্বাচন করে অনুমান পরীক্ষা করা হয়। এটা মূলত | নমুনার আকার আকৃতি, পরীক্ষার উদ্দেশ্য ইত্যাদি দ্বারা নির্ধারিত হয়। অনুমান পরীক্ষা সাধারণ 2-test, t-test, | F-test ইত্যাদির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।

৪. সংশয় এলাকা নির্ধারণ : এ পর্যায়ে অনুমান সম্পর্কে সিদ্ধান্তগ্রহণের পূর্বে নমুনাজমানের কোন মানের ভিত্তিতে নাস্তি কল্পনা গ্রহণ বা বর্জন করতে হবে তা নির্দিষ্ট করতে হয়। 

অর্থাৎ একটি সীমা ধরে নেওয়া হয় এবং এর মধ্যে পড়লে অনুমানকে গ্রহণ করা হয় এবং বাইরে পড়লে বাতিল করা হয় । এই মানই সংশয় এলাকার নির্দেশক। বাস্তব ক্ষেত্রে অনুমান পরীক্ষা দ্বি প্রান্তিক এবং এক প্রান্তিক পদ্ধতিতে করা হয়ে থাকে।

৫. হিসাবকরণ : এ পর্যায়ে নমুনার আকার n এর ওপর ভিত্তি করে নমুনা যাচাই করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হিসাবনিকাশ করা হয়। এই ফলাফল পরীক্ষিত রেখার গ্রহণ এলাকা বা বর্জন এলাকায় পড়ে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

৬. সিদ্ধান্তগ্রহণ : সিদ্ধান্তগ্রহণ হলো অনুমান পরীক্ষার সর্বশেষ ধাপ বা পর্যায়। এই পর্যায়ে নাস্তি কল্পনা গ্রহণ বা বর্জন সম্পর্কে সিদ্ধান্তগ্রহণ করতে হয়। যদি নির্ণীত মান টেৰিলমানকে অতিক্রম করে তাহলে নাস্তিকল্পনা বাতিল হবে এবং মাঝামাঝি অবস্থান করলে নাস্তিকল্পনা গৃহীত হবে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, অনুমান পরীক্ষার মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ লক্ষ মান বা তথ্য সম্পর্কিত পূর্ব ধারণা বা মতামত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। তাছাড়া অনুমান পরীক্ষার মাধ্যমে তত্ত্বের গঠন সম্পর্কে যৌক্তিকতা নিরূপণ করা যায়। 

সামাজিক গবেষণায় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ কৌশল ও পরিমাপকের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে অনুমান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ পূর্বানুমান যাচাইয়ের ধাপসমূহ বর্ণনা কর

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম অনুকল্প যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর। যদি তোমাদের আজকের এই পড়াটিটি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ