সিন্ধু দেশে আরবদের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো সিন্ধু দেশে আরবদের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর জেনে নিবো। তোমরা যদি পড়াটি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের সিন্ধু দেশে আরবদের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। আমাদের গুগল নিউজ ফলো করুন।

সিন্ধু দেশে আরবদের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর
সিন্ধু দেশে আরবদের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর


সিন্ধু দেশে আরবদের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর

  • অথবা, সিন্ধু দেশে আরবদের শাসনব্যবস্থার বিবরণ দাও ।
  • অথবা, সিন্ধু দেশে আরবদের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত কর।

উত্তর : ভূমিকা : সিন্ধু বিজয়ের পর মুহাম্মদ-বিন-কাসিম সেখানে সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা কায়েম করেন। বলতে গেলে এই শাসনব্যবস্থা আরবদের এবং বিশেষ করে মুহাম্মদ বিন কাসিমের বিচক্ষণ রাজনৈতিক জ্ঞানের পরিচয় বহন করে। সিন্ধু দেশে আরবরা মূলত ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অধিক মনোযোগী ছিল।

সিন্ধু দেশে আরবদের শাসনব্যবস্থা : মুহাম্মদ-বিন- কাসিম ছিলেন একজন সুদক্ষ সেনাপতি ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ তার যোগ্যতা ও দক্ষতার বলে আরবরা সিন্ধু বিজয় করতে সক্ষম হয়। আরবদের সিন্ধু বিজয়ের পর শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। নিম্নে সিন্ধু দেশে আরবদের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে, আলোচনা করা হলো :

আরবদের শাসনব্যবস্থা : হযরত উমর (রা.)-এর সময়ে নিয়ম করা হয়েছিল যে, বিজিত দেশে আরবরা কোনো সম্পত্তি অধিকার করতে পারবে না। এই নিয়ম উমাইয়া খেলাফতেও প্রচলিত ছিল ।

 সিন্ধুদেশেও মুহাম্মদ-বিন-কাসিম এই নিয়ম পুরোপুরি অনুসরণ করেন। আরবীয়রা শুধু সামরিক বিভাগেই নিযুক্ত ছিলেন, বেসামরিক বিভাগসমূহ দেশীয় লোকদের হাতে সম্পূর্ণ ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে মাত্র অল্পসংখ্যক লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে; তবুও বিনা দ্বিধায় মুহাম্মদ-বিন-কাসিম বিধর্মীদের হাতে প্রায় সমস্ত শাসনভার ছেড়ে দেন। 

তিনি অধিকৃত অঞ্চলের অধিবাসীগণকে আহলে কিতাবরূপে গণ্য করেন এবং তাদেরকে জিম্মির মর্যাদা দান করেন।

পরবর্তীকালেও মুসলিম আইনবিদরা জিম্মিদেরকে যে সকল সুযোগ-সুবিধা দানের পক্ষপাতি ছিলেন, মুহাম্মদ-বিন-কাসিম সিন্ধু অধিবাসীদিগকে তার চেয়েও বেশি সুযোগ-সুবিধাদি প্রদান করেন। 

যেমন- মন্দির মেরামতের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। অধিকৃত অঞ্চলের বিধর্মীরা মন্দির মেরামত করার অনুমতি প্রার্থনা করলে মুহাম্মদ-বিন-কাসিম হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফের কাছে তার সমাধান চেয়ে পাঠান।

 হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফ মন্দির মেরামতের অনুমতি দিয়ে মুহাম্মদ-বিন-কাসিমকে জানান যে, যেহেতু সিন্ধুবাসীরা আত্মসমর্পণ করেছে এবং খলিফার নিকট কর দিতে রাজি হয়েছে। 

তাদের কাছে আর বেশি কিছু আশা করা অনুচিত। কাসিম সিন্ধুর অধিবাসী বিধর্মীদের মন্দির মেরামত করার অনুমতি দেন।

অধিকৃত দেশের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মুহাম্মদ-বিন-কাসিম ব্রাহ্মণদেরকেও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দান করেন। পূর্বকাল হতে ব্রাহ্মণরা যেসব পদে চাকরি করত, সেসব পদে তাদেরকে বহাল রাখা হয়।

এমনকি যেসব উচ্চপদস্থ কর্মচারী ভয়ে, আত্মগোপন করেছিল। মুহাম্মদ-বিন-কাসিম তাদেরকে ডেকে এনে স্ব স্ব পদে বহাল করেন। দাহিরের সময়ে তারা শতকরা ৩ ভাগ রাজস্ব ভোগ করতে পারত। মুহাম্মদ-বিন-কাসিম তাদের সে সুবিধাও দেন।

ধর্মীয় বিষয় ছাড়া দৈনন্দিন শাসনকাজেও মুহাম্মদ-বিন- কাসিম বেশ বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। রাজস্ব আদায়ের জন্য তিনি গ্রাম ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিযুক্ত করেন এবং নির্ধারিত হারে খাজনা আদায়ের আদেশ দেন। 

এই নীতি অনুসরণের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মনে সাহস ও নিরাপত্তার ভাব বিরাজ করত। মুহাম্মদ-বিন-কাসিমের শাসন নীতিতে দুইটি বিষয় লক্ষণীয় । 

প্রথমত, প্রজাদের ক্ষমতার দিকে লক্ষ রাখা হতো এবং দ্বিতীয়ত, স্থানীয় অধিবাসীদের সাহায্যেই রাজস্ব আদায় করা হতো। এই দুই কারণেই মুহাম্মদ-বিন-কাসিমের শাসনব্যবস্থা স্থানীয় জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ছিল।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, সিন্ধু দেশে আরবরা জনসাধারণের পক্ষে সহনীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তারা বিধর্মীদেরকেও যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন। 

মুহাম্মদ-বিন- কাসিম সিন্ধু দেশে বছরকালের মতো শাসনকার্য পরিচালনা করে এবং তার শাসন পদ্ধতি এক বছরের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ সিন্ধু দেশে আরবদের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম সিন্ধু দেশে আরবদের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। যদি তোমাদের আজকের সিন্ধু দেশে আরবদের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর পড়াটিটি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ