লেখালেখি করে মাসে ৬ হাজার টাকা ইনকাম

ফেসবুকে লিংক শেয়ার করে ১০০০ টাকা আয়

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি | কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল

আসসালামু আলাইকুম। আজকের ব্লগের বিষয় হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বই pdf।

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি  কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি  কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল

হ্যালো বন্ধুরা আমি আরকে রায়হান। আজকে আমরা আলোচনা করব কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল। আমরা আজকে আমাদের পোষ্টে যেসব বিষয় জানবো তা নিচে সুচিপত্র অনুযায়ী দেখানো হলো।

সুচিপত্রঃ কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি | কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি (Concept of Network) 

নেটওয়ার্কিং বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলাে এমন এক ব্যবস্থা যেখানে একাধিক কম্পিউটার সংযুক্ত করে ডেটা আদান প্রদান করা হয়। কম্পিউটার প্রযুক্তির সর্বাধুনিক বিকাশ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রসারিত করা। ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীর বহত্তম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান, ব্যক্তিগত যােগাযােগ, ই-মেইল, অনলাইন ব্যাংকিং ইত্যাদি কাজ করা যায়। 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি  কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি  কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যবহার/উদ্দেশ্য (Use of Computer Network) 

১. তথ্য বিনিময় (Information Sharing) ; নেটওয়ার্কভুক্ত এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সহজেই তথ্য আদান প্রদান করা যায়।। 

২. হার্ডওয়্যার রিসাের্স শেয়ারিং (Hardware Resource Sharing): কম্পিউটারের সাথে যুক্ত অন্যান্য যন্ত্রপাতি যেমন| প্রিন্টার, মডেম ইত্যাদি অন্য কম্পিউটার থেকে ব্যবহার করা যায়। এতে করে খরচ বেঁচে যায়। 

৩. সফটওয়্যার রিসাের্স শেয়ারিং (Software Resource Sharing) : নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সফটওয়্যার এবং ফাইল অন্যান্য কম্পিউটার থেকে শেয়ার করা যায়। 

৪. তথ্য সংরক্ষণ (Information Preservation) : নেটওয়ার্কিং সুবিধা কাজে লাগিয়ে একটি কেন্দ্রীয় স্টোরেজ মিডিয়া বা সার্ভারে ক্লায়েন্ট যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। এতে করে ডেটা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে না। 

৫. মেসেজ আদান-প্রদান (Exchanging Message) : নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলাে নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারে। এভাবে নেটওয়ার্ক স্থাপন করে কাগজবিহীন অফিস প্রতিষ্ঠা করা যায়।

৬. দূরবর্তী স্থান থেকে ব্যবহার (Remote Using) : নেটওয়ার্ক এ সংযুক্ত হয়ে ঘরে বসে অফিসের অনেক কাজ করা যায়। 

৭. ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট (Database management) : কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর ফলে কোনাে প্রতিষ্ঠানের সকল ডেটা নেটওয়ার্কভুক্ত সার্ভারে স্টোর করে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যাকআপ রাখা ইত্যাদি কাজ করা যায়।

৮, অফিস অটোমেশন (Office Automation) : কম্পিউটার নেটওয়ার্ক করে একটি বড় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান, আপডেটকরণ, লেনদেন, রিপাের্ট তৈরিকরণ ইত্যাদি কাজ করা যায়। 

৯. নিরাপত্তা (Security) : পাসওয়ার্ড দিয়ে এক্সেস কন্ট্রোল করা যায়। ফলে অ-অনুমােদিত ব্যবহারকারী নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারে না। 

১০. সার্ভার সংযুক্তি (Connecting Server): সার্ভারের সাথে যুক্ত হওয়া এবং সার্ভারের এপ্লিকেশন চালনা। 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি  কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি  কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক স্থাপনের অসুবিধা 

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন— 

১. নেটওয়ার্ক সিস্টেম বাস্তবায়নে অনেক অর্থ প্রয়ােজন হয়। 

২. শক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকলে ভাইরাস আক্রমণ এবং ডেটা হ্যাকিং এর ফলে নেটওয়ার্ক সিস্টেমে সমস্যার সৃষ্টি হয়। 

৩. নেটওয়ার্ক সিস্টেম বাস্তবায়নের পর এর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়।

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (Classification of Computer Network) 

বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ করা যায়। নিচে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক-এর। প্রকারভেদ/শ্রেণিবিভাগ ছকের সাহায্যে দেখানাে হলাে :

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

  • মালিকানা অনুসারে
  • নিয়ন্ত্রণ কাঠামাে অনুসারে
  • ভৌগােলিক বিস্তৃতি অনুসারে।

মালিকানা অনুসারে।

  • প্রাইভেট নেটওয়ার্ক
  • পাবলিক নেটওয়ার্ক

নিয়ন্ত্রণ কাঠামাে অনুসারে

  • সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক
  • ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক

ভৌগােলিক বিস্তৃতি অনুসারে।

  • LAN
  • MAN
  • WAN
  • PAN

LAN

  • ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক
  • পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক
  • হাইব্রিড নেটওয়ার্ক

পাবলিক নেটওয়ার্ক প্রাইভেট নেটওয়ার্ক
১. পাবলিক নেটওয়ার্ক কোনাে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক মালিকাধীন নয়।  ১. প্রাইভেট নেটওয়ার্ক কোনাে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক মালিকাধীন হয়ে থাকে।
২. যে কেউ এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে। ২. যে কেউ এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে না।
৩. কম নিরাপদ। ৩. অধিক নিরাপদ।
৪. এটি কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ৪. এটি ব্যক্তি মালিকাধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়।
৫. ট্রাফিক কম। ৫. ট্রাফিক বেশি।
৬. ডেটা ট্রান্সফার দ্রুতগতির হয়। ৬. ডেটা ট্রান্সফার কম গতির হয়।
৭. উদাহরণ : ব্যাংকের এটিএম। ৭. উদাহরণ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এর নিজস্ব নেটওয়ার্ক।

নিয়ন্ত্রণ কাঠামাে অনুসারে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের শ্রেণিবিভাগ 

নিয়ন্ত্রণ কাঠামাে ও সার্ভিসের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা

১. সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক: একটি প্রধান কম্পিউটার বা হােস্ট কম্পিউটার এবং কিছু টার্মিনাল নিয়ে গঠিত হয়। সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক হােস্ট কম্পিউটার সকল প্রসেসিং এর কাজ এবং নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের কাজ করে থাকে। হােস্ট হিসেবে সাধারণত মেইনফ্রেম অথবা অন্য কোনাে শক্তিশালী সার্ভার কম্পিউটার এবং টার্মিনাল হিসেবে কী-বাের্ড ও মনিটর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। টার্মিনালের সাহায্যে ব্যবহারকারী হােস্ট কম্পিউটারে সংযুক্ত হয়ে থাকে। টার্মিনাল দু'ধরনের হয়ে থাকে। যথা

  • ডাম্ব টার্মিনাল: এর কোনাে মেমােরি, প্রসেসিং ক্ষমতা ও স্টোরেজ থাকে না। 
  • ইন্টিলিজেন্ট টার্মিনাল : সীমিতভাবে মেমােরি, প্রসেসিং ক্ষমতা ও স্টোরেজ থাকে। 

২. ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক: যে নেটওয়ার্কে নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারসমূহ এমনভাবে বিন্যস্ত যাতে অনেকগুলাে প্রসেসর (সিপিইউ) বিভিন্ন স্থানে ছড়ানাে কম্পিউটারে থাকে, কিন্তু প্রয়ােজনে যেগুলাে আলাদাভাবে অথবা সংযুক্তভাবে কাজ করতে পারে তাকে ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক বলা হয়।

৩, হাইব্রিড নেটওয়ার্ক সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক ও ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্কের সংমিশ্রণে তৈরি নেটওয়ার্ককে হাইব্রিড নেটওয়ার্ক বলা হয়। এ নেটওয়ার্কে হােস্ট কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রসেসিং এর পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে।

ভৌগােলিক বিস্তৃতি অনুসারে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের শ্রেণিবিভাগ 

ভৌগােলিক বিস্তৃতি অনুসারে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে মূলত চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা, 

১. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Personal Area Network - PAN) 

২. লােকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Local Area Network - LAN) 

৩ মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (Metropoliton Area Network - MAN) 

৪. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (Wide Area Network - WAN)

নিচে এদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলাে।

১. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Personal Area Network - PAN) 

পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান হলাে এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যেটি পার্সোনাল কম্পিউটার ডিভাইসসমূহের মধ্যে যােগাযােগের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্যানের ব্যাপ্তি সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। উদাহরণ: ওয়্যারলেস ইউএসবি, ব্লটুথ অথবা জিগবি। 

প্যান এর বৈশিষ্ট্য (Characteristics of PAN) 

১, পার্সোনাল কম্পিউটার ডিভাইসসমূহের মধ্যে যােগাযােগের জন্য ব্যবহৃত হয়। 

২. খরচ তুলনামূলকভাবে কম। 

৩. দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। 

৪, এ ধরনের নেটওয়ার্ক যেকোনাে জায়গায় তৈরি করা যায়।

৫. ব্যাপ্তি সাধারণত কয়েক মিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। 

৬. কম্পিউটার বাসসমূহ যেমন - ইউএসবি বা ফায়ারওয়্যার এর মাধ্যমে তার দ্বারা যুক্ত থাকতে পারে।। 

৭. ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি দ্বারা একটি ওয়্যারলেস পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WPAN তৈরি করা সম্ভব।

প্যান এর অসুবিধা (Disadvantages of PAN) 

১. ট্রান্সমিশন গতি কম। 

২. নেটওয়ার্ক ডিভাইস ব্যায়বহুল।

২. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN--Local Area Network) | একটি নির্দিষ্ট ভবন ক্যাম্পাসে একটি ভবনের মাঝে অবস্থিত বিভিন্ন কম্পিউটার নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্ককে লােকাল এরিয়া। নেটওয়ার্ক বলা হয়। ল্যান এর এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কম্পিউটারগুলােকে থাকতে হবে। এ নেটওয়ার্ক স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি সহজসাধ্য ও ব্যয়বহুল নয়।

লােকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য 

১. সীমিত দূরত্বের মধ্যে এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। 

২. শ্রেণি সংযােগের মাধ্যমে কম্পিউটারগুলাে সংযুক্ত হয়। 

৩. ডেটা স্থানান্তরের হার সাধারণত 10 mbps থেকে 1000 mbps । 

৪. এ নেটওয়ার্ক স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি সহজ ও খরচ কম। 

৫. ব্যবহার করা সহজ। 

৬. এ নেটওয়ার্কে কম্পিউটারসমূহ তার বা তারবিহীন সংযােগ প্রদান করা যায়।

মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN-Metropoliton Area Network) 

MAN এর পুরাে অর্থ হলাে Metropoliton Area Network. কোনাে বড় শহরের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বিস্তৃত। কম্পিউটারসমূহের মধ্যে স্থাপিত নেটওয়ার্ককে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা হয়। এ নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য : 

১. MAN এর বিস্তৃতি ১০ থেকে ৩০ কি.মি পর্যন্ত হতে পারে। 

২. LAN এর চেয়ে দ্রুতগতির।। 

৩. খরচ তুলনামূলকভাবে কম। 

৪. বেশি পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। 

৫. MAN এর মালিকানা সাধারণত কোনাে অর্গানাইজেশনের হয়ে থাকে।

LAN ও MAN এর মধ্যে পার্থক্য | কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল

ল্যান (LAN) ম্যান (MAN)
১. এর পুরাে অর্থ হলাে Local Area Network. ১. এর পুরাে অর্থ হলাে Metropoliton Area Network.
২. LAN এর মালিকানা সাধারণত কোনাে একক ব্যক্তি বা কিছুসংখ্যক লােকের একটি গ্রুপের হতে পারে।  ২. MAN এর মালিকানা সাধারণত কোনাে অর্গানাইজেশনের হয়ে থাকে।
৩. এক্ষেত্রে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ভবন ক্যাম্পাসে একদল কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত হয়। ৩. MAN হলাে কতগুলাে ল্যান এর সমন্বয় যা একটি পুরাে শহর বা বড় আকারের কোনাে এলাকাব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।
৪. LAN এর গতি কম। ৪. LAN এর চেয়ে MAN দ্রুতগতির।

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN-Wide Area Network) 

ওয়ান বা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক হচ্ছে কতকগুলাে কম্পিউটার বা ল্যানের নেটওয়ার্ক যারা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। ইন্টারনেট হলাে ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ই-মেইল আদান-প্রদান করা, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা, ফাইল ডাউনলােড, অনলাইন শপিং ইত্যাদি করা যায়। ওয়ানের আওতায় কম্পিউটারগুলাে কেবল একটি শহরেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, অথবা এগুলাে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়েও থাকতে পারে। তবে ওয়ানের পুরাে বিষয়টি নির্ভর করছে ফিজিক্যাল লাইন, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশন এবং মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশনের উপর ।

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের সুবিধা (Advantages of Wide Area Network) 

১. বিভিন্ন তথ্য, পত্র-পত্রিকা, বই, চলচ্চিত্র প্রভৃতি সংগ্রহ ও ব্যবহার করা যায়। 

২. বিশ্বের যেকোনাে স্থানে ই-মেইল প্রেরণ করা যায় । 

৩. ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে বুলেটিন বাের্ড গঠন করা যায় । 

৪. অনলাইন শপিং করা যায় । 

৫. ক্লাউট কম্পিউটিং সুবিধা পাওয়া যায় । 

৬. কম খরচে বিশ্বের যে কোনাে স্থানে ভয়েস ও ভিডিও যােগাযােগ করা হয়। 

৭, সর্বোপরি, সমগ্র নেটওয়ার্ক বিশ্বকে টেবিলে বসে প্রত্যক্ষ করা যায়। 

৮. কম খরচে ও অল্প সময়ে বিশ্বের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়।

লােকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান) ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (ওয়ান)।
১. ল্যানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সর্বোচ্চ। দূরত্বের একটি সুনির্দিষ্ট সীমা থাকে। ১. ওয়ান হচ্ছে কতকগুলাে ল্যানের বৃহত্তম নেটওয়ার্ক যারা বিভিন্ন ভৌগােলিক দূরত্বে অবস্থিত বিধায় দূরত্বের কোনাে সীমা থাকে না।
২. বাসা বা অফিসে হাব বা সুইচের সাহায্যে সংযুক্ত একাধিক কম্পিউটার ল্যানের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ২. ইন্টারনেট ওয়ানের একটি উদাহরণ।
৩. সাধারণত ফাইল, ফোল্ডার, প্রিন্টার জাতীয় রিসাের্স। শেয়ার করার জন্য ল্যান তৈরি করা হয়। ৩. বড় আকারের ডকুমেন্ট আদান-প্রদান, ইন্টারনেট, ই-মেইল ইত্যাদি সুবিধা সৃষ্টি করা হয়।
৪. ল্যানের সাথে টেলিযােগাযােগ ব্যবস্থার কোনাে সংশ্লেষ নেই। ৪. ওয়ানের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে টেলিযােগাযােগ সিস্টেম।
৫. ল্যানে কখনও মডেম ব্যবহার করা হয় না। ৫. ওয়ানে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের মডেম ব্যবহৃত হতে পারে।
৬, ল্যানের ডেটা ট্রান্সমিশন ওয়ানের তুলনায় অনেক বেশি। ৬. ওয়ানের ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) সীমিত বলে ল্যানের তুলনায় ডেটা ট্রান্সমিশন গতি কম।

LAN-এর শ্রেণিবিভাগ | কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল

নিয়ন্ত্রণ কাঠামাে এবং সার্ভিস প্রদানের ধরনের ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা

১. ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client-Server Network)। 

২. পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক (Peer to Peer Network) 

৩. মিশ্র বা হাইব্রিড নেটওয়ার্ক (Hybrid Network)

আর্টিকেলের শেষকথাঃ কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি | কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল। আশা করি আপনাদের আজকের এই কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল ভালো লাগবে। যদি ভালো লাগে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আর এই রকম নিত্য নতুন টপিক পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইট টি ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কি, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং টিউটোরিয়াল, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর জন্য কয় ধরনের টপোলজি ব্যবহার করা হয়, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বই pdf, বেসিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং pdf, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর বই, বেসিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, বেসিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এন্ড লিনাক্স রেড-হ্যাট এন্টারপ্রাইজ-৫, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বাংলা বই

Next Post Previous Post